খেলা ডেস্ক | সোমবার, ১২ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট | ৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
লম্বা সময় ইতালির প্রধানমন্ত্রী ও এসি মিলানের প্রেসিডেন্টের পদে থাকা সালভিও বের্লুসকোনি সোমবার মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
লিউকেমিয়ায় ভুগছিলেন বের্লুসকোনি। মিলানের সান রাফায়েলে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিন সপ্তাহ আগে রক্তের বিরল ক্যানসার ধরা পড়ে তার। ফুসফুসের সংক্রমণও ছিল। তার মৃত্যুতে এসি মিলান গভীর শোক প্রকার করেছে।
বের্লুসকোনি এসি মিলানকে বিশ্বের সেরা ক্লাবে পরিণত করেছেন। শুধু এসি মিলান নয় ইতালির আধুনিক ফুটবলের অন্যতম নায়কও তিনি। যিনি বিশ্বাস করতেন- আধুনিক ফুটবলে সম্পদ এবং বিনিয়োগ খুব দরকার। এসি মিলানে বিনিয়োগও করেছিলেন তিনি। যার ফলে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ লিগ হয়ে উঠেছিল ইতালি। ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বীতার প্রভাব জাতীয় দলেও পড়েছিল। ইতালি ১৯৮২ বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৯০ আসরে তৃতীয় ও ১৯৯৪ আসরে রানার্স আপ হয়েছিল।
বের্লুসকোনি ১৯৮৬ সালে এসি মিলানের মালিকানা নেন। ১৯৭০’র দশকের মধ্যে ক্লাবটি দশটি লিগ শিরোপা জিতেছিল। দুটি ইউরোপের শিরোপাও ঘরে তুলেছিল। ওই ক্লাবটি ১৯৮০ সালে টটোনেরো বা ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির জন্য দ্বিতীয় বিভাগে নেমে গিয়েছিল। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত শীর্ষ লিগে ফেরা দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাওয়ার মধ্যে ছিল ক্লাবটি। যার কারণে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছিল। ওই ক্লাবের মালিকানা নিয়ে বের্লুসকোনি ক্লাবটিকে বিশ্বের সেরা করেছেন।
ইতালির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তার ক্লাবে রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনহো, কাকার মতো ফুটবলার এনেছেন। তার মালিকানায় এসি মিলান পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। ক্লাবের মালিকানা নেওয়ার পর ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। ২০১০-১১ মৌসুমের মধ্যে আরও সাতটি লিগ শিরোপা ঘরে তোলে।
এছাড়া ফুটবলে যা কিছু জেতা যায়- লিগ, কোপা ইতালিয়ানো, ইতালিয়ান সুপার কাপ, ইউরোপিয়ান কাপস, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ, ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ সবই জিতেছে বের্লুসকোনির এসি মিলান। ২০১২ সাল পর্যন্ত তার মালিকানায় ছিল এসি মিলান। তিনি সরে যাওয়ার পরে কেবল একটি লিগ শিরোপা ছাড়া কিছুই জিততে পারেনি এসি মিলান।
বের্লুসকোনি লম্বা সময় ইতালির প্রধানমন্ত্রী থাকলেও রাজনীতির চেয়ে ফুটবল নিয়ে কথা বলতে বেশি পছন্দ করতেন। বেফাঁস কিংবা মিডিয়ার সামনে সাবলীল কথা বলার জন্য তাকে ‘মিডিয়া টাইকন’ বলা হতো। তিনি একবার বলেছিলেন- চলুন ফুটবল এবং নারী নিয়ে কথা বলি। গেরহার্ড শুরু করছেন না কেন। এসি মিলানে অর্থ খরচ করা নিয়ে বলেছিলেন- এসি মিলান আমার হৃদয় থেকে ভালোবাসার জিনিস। এটা ব্যয়বহুল। কিন্তু সবচেয়ে সুন্দরী রমনীও তো অনেক অর্থ খরচের কারণ হয়।