আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পবিত্র হজের ধারাবাহিক আনুষ্ঠানিকতায় বুধবার সৌদি আরবের মিনায় ‘শয়তানকে’ পাথর নিক্ষেপ করছেন হাজিরা। গতকাল মঙ্গলবার হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন মুসল্লিরা। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর। ভোর থেকেই ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মগ্ন থাকেন তারা।
মরুর তীব্র গরমের কারণে এদিন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরই মধ্যে আরাফাতের ময়দানে লাখো হাজি নামাজ আদায় করেন।
গতকাল ফজরের নামাজের আগেই হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান নেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত এই ময়দানে অবস্থান করেন হাজিরা। সূর্যাস্তের পর তারা মুজদালিফায় গমন করেন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপনের পর মিনায় ফিরে আজ শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি ও কাবা শরিফে তাওয়াফসহ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন তারা।
গতকাল আরাফাতের ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে জোহরের নামাজের শেষ ওয়াক্তে হজের খুতবা পাঠ করা হয়। এরপর সেখানে সমবেতরা এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করেন। এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়ায় অংশ নেন।
আরাফাতের ময়দানে সমবেত লাখো হাজির উপস্থিতিতে খুতবা দেন মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শেখ আলী আল-হুদাইফি। খুতবায় বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
খুতবা শেষ হওয়ার পর ইমাম আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করেন। হাজিদের হজ কবুল করার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন তিনি। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য এবং হাজিদের নিরাপদে ঘরে ফেরার জন্য দোয়া করেন।
সৌদি গেজেট জানায়, হজের মূল রুকন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে গতকাল স্থানীয় সময় সূর্যাস্তের পর লাখো হজযাত্রী মুজদালিফায় পৌঁছান। তালবিয়া পাঠ করতে করতে শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে তারা সেখানে রাত যাপন করেন। আজ স্থানীয় সময় ফজরের নামাজের পর হাজিরা মিনায় গিয়ে জামারাত আল-আকাবায় পাথর নিক্ষেপসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন।
এ বছর পবিত্র হজে অংশ নিয়েছেন ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩০১ জন মুসল্লি। এদের মধ্যে সৌদি আরবের বাইরের ১৬৫টি দেশ থেকে গিয়েছেন ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জন হজযাত্রী। আর সৌদির নাগরিক ও দেশটিতে বসবাস করা হাজি রয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।
২০২৫ সালে হজে অংশ নিয়েছিলেন ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩০ জন মুসল্লি।
এ বছর হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব গেছেন প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থাকলেও ইরান থেকে ৩০ হাজার হজযাত্রী সৌদি গেছেন।