শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ইউরোপে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য: আস্থা পুনর্গঠন ও প্রবাসীদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসনের দাবি

জাতীয় ডেস্ক   |   রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৫১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইউরোপে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য: আস্থা পুনর্গঠন ও প্রবাসীদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসনের দাবি

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার): জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে আগামী পাঁচ বছরে ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ১০ লাখ দক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করার দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতালবাংলা সমিতি ও বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালে ইতালির শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হলেও দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক স্থবিরতা ও দুর্বল তদারকির কারণে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ১ কোটি দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ, এক দেশের ভিসা নিয়ে অন্য দেশে অবস্থান এবং আইন অমান্য করার প্রবণতা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। অনেক ক্ষেত্রে এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে একটি বাস্তবভিত্তিক ‘মাস্টার প্ল্যান’ উপস্থাপন করে আগামী পাঁচ বছরে ইউরোপে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

সেমিনারে জানানো হয়, ইতালবাংলা সমিতি গত তিন বছর ধরে ইতালি সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে প্রি-ডিপারচার ট্রেনিং মডেল বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১,৪৭২ জন কর্মী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যা ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের একটি কার্যকর পাইলট উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধান প্রস্তাব হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষায়িত ‘ইউরোপীয় উইং’ গঠনের দাবি জানানো হয়। বক্তারা মনে করেন, এই উইংয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার করা এবং সরকার-টু-সরকার (G2G) চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কোটা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে অবৈধ অভিবাসন রোধে স্মার্ট ডাটাবেজ ও রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি আইটি, হেলথকেয়ার, ট্যুরিজম, কনস্ট্রাকশন ও কৃষিখাতে সমানভাবে ২ লাখ করে মোট ১০ লাখ দক্ষ কর্মী তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রবাসীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—দেড় কোটি প্রবাসীর জন্য সংসদে অন্তত ৩৭-৩৮টি সংরক্ষিত আসন, অনলাইন বা দূতাবাসের মাধ্যমে ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ‘প্রবাসী স্মার্ট কার্ড’ চালুর মাধ্যমে আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মহিউদ্দিন আহমেদ ঝিন্টু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা) প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন এবং উপ-পরিচালক (আইসিটি, পরিসংখ্যান ও গবেষণা) মোহাম্মদ আলী মর্তুজা।

এছাড়া বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (বিএমএফ)-এর চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয়সহ ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সাবেক নির্বাচন কমিশনার নুরুদ্দিন (বিএনপি ইতালি) এবং বিএনপি ইতালির সদস্য রাজু আহমেদ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়; এটি তাদের ন্যায্য সাংবিধানিক অধিকার। এর মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক কূটনীতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম