শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে জেল হেফাজতের নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক   |   রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে জেল হেফাজতের নির্দেশ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ও আলমগীর হোসেনকে ১২ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে (জেল হাজত) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালত।

আজ রোববার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধান নগর মহকুমা আদালতে তোলা হয় এই দুই অভিযুক্তকে। আদালত তাদের ১২ দিনের জেলা হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আগামী ২ এপ্রিল তাদের ফের আদালতে তোলা হবে।

দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেই ফরেনার্স আইনের ১৪ ধারায় মামলা দায়ের করা ছিল। আজ রোববার নতুন করে অন্য একটি মামলায় ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ (প্রিভেনশন) আইন’ বা ইউএপিএ আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিন ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) তরফে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে, তারা যাতে কারাগারে গিয়ে দুই অভিযুক্তকে জেরা করতে পারে। আদালত তাতে সম্মতি জানান। সেক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে ফয়সাল ও আলমগীরকে কারাগারে গিয়ে জেরা করবেন এনআইএ কর্মকর্তারা। সে ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই ধারায় সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে।

এদিকে, আদালতের নির্দেশের পর যখন অভিযুক্তদের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সে সময় গণমাধ্যমকে ফয়সাল বলেন, ‘আমি এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত নই।’ তাকে প্রশ্ন করা হয়- ‘তুমি কি খুন করেছিলে?’। জবাবে তিনি বলেন, ‘না’। পরে তিনি আরও জানান, ‘এটা জামায়াত-বিএনপি’র একটা চাল হতে পারে।

জামায়াতের কে কে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত- এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল জানান, ‘সেটা আমি জানি না।’ স্থানীয় গণমাধ্যমেরকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফয়সাল আরও বলেন, ‘আপনারা যে হাদি হাদি করছেন, বাংলাদেশের মানুষ যে হাদি হাদি করছে… হাদি তো আসলে জামায়াতের প্রোডাক্ট। ও তো একটা জঙ্গি।’ তবে কে হাদিকে খুন করেছিল?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি করিনি। অন দ্যা স্পটে আমি ছিলাম না। আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি। এই ঘটনায় জামায়াত-বিএনপির কাজ হতে পারে।’
যদিও আদালতে তোলার সময় ফয়সাল জানিয়েছিলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে যুক্ত ছিলাম না।’

এর আগে, তাকে বিধান নগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবশ্য কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

গত ৭ মার্চ রাতে অভিযুক্ত দু’জনকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।

৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালীতে। ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়।

এসটিএফ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন দু’জনেই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন তারা। সুযোগ বুঝে ফের তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তার আগেই তারা আটক হন।

পরে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তাদের বিধান নগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালত ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন। রিমান্ড শেষে আজ রোববার ফের তাদের আদালতে তোলা হয়।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম