রাজনীতি ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ত ও নিশ্চুপ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা সাধারণ প্রার্থীর প্রতি যেমন কঠোর আইন পালনে আগ্রহী, সবার ব্যাপারেই যেন একই আচরণ করেন। আমরা নির্বাচন কমিশনে বলে এসেছি– নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা কিংবা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিশ্চুপতা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করছে। আশা করি, নির্বাচন কমিশন তাদের আচরণে পরিবর্তন আনবে।
গতকাল গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ওই রাজনৈতিক দলটি ঢাকা মহানগর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে কম শিক্ষিত ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ফটোকপি, মোবাইল নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সংগ্রহ করছে। এটা কখনও হয়নি এই দেশে।
নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বলেন, আমরা বারবার বলে এসেছি, আমরা নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ চাই। দল বড় হোক বা ছোট হোক, ব্যক্তি ক্ষমতাবান হোন বা না হোন, পদবিধারী হোন বা সাধারণ নাগরিক হোন– সবার জন্য নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা দরকার।
তিনি বলেন, ওইসব দলের উল্লেখযোগ্য নেতা, গুরুত্বপূর্ণ নেতা নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের চোখের সামনে। অথচ বিএনপির চেয়ারম্যান দেশের উত্তরাঞ্চল যেতে চেয়েছিলেন। পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছিল, এটা কোনো নির্বাচনী সফর না রাজনৈতিক সফরও না। নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করেছিল আমরা যেন এই সফর স্থগিত রাখি। আমরা সেটা মেনেছি, চেয়ারম্যান সেটা স্থগিত করেছেন।
পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে
নির্বাচনে বিশেষ কিছু দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য দাঁড়িপাল্লা, হাতপাখা ও শাপলা কলি প্রতীকগুলোকে পোস্টাল ব্যালটের প্রথম লাইনে রাখা হয়েছে আর বিএনপির প্রতীক ভাঁজে নিচে স্থান পাওয়ার প্রসঙ্গটি তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টা স্পষ্টতই খুব উদ্দেশ্যমূলক।
তিনি বলেন, এই পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আরও কিছু ঘটনা ঘটছে। বাহরাইনে একজন জামায়েত নেতার বাসায় দুইশর বেশি ব্যালট পেপার নিয়ে কাজ করা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এক বাড়িতে অনেক ব্যালট পেপার নিয়ে তারা কাজ করছে। তাহলে ব্যালট পেপারের বা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যে আইনানুগ প্রক্রিয়া সেটা ব্যাহত হলো।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিহউল্লাহসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।