জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অবনতি হতে শুরু করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এক সময়ের ‘সোনালি অধ্যায়’খ্যাত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত এসেছে দিল্লির পক্ষ থেকে।
তবে সেই বার্তা কূটনৈতিক পর্যায়েই আটকে রয়েছে, নিচ পর্যন্ত আর নামেনি। তার বড় উদাহরণ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)।
শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত থেকে বাংলাদেশ নিয়ে তীব্র বিরোধিতা আসে ভারত থেকে। বিশেষ করে দেশটির সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যম বাংলাদেশে গণহারে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ আনে। তবে সেসব অভিযোগ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বলে জানায় অন্তর্বর্তী সরকার। দুদেশের সরকারের মধ্যকার বৈরিতা ও টানাপোড়েন ছড়িয়ে যায় সাধারণ মানুষ পর্যায়ে। হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সরকারি হাইকমিশনে ভাঙচুর চালায় উগ্র ভারতীয়রা।
২০২৫ সালের বছরজুড়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক অবনতি হতে থাকে। ভারতের মাটি ব্যবহার করে শেখ হাসিনা ক্রমাগত বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা দেশের ভেতর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে একাধিকবার জানিয়েছে ঢাকা। এর অংশ হিসেবে প্রতিবাদ জানাতে ঢাকা ভারতীয় দূতকে তলব করেছে। পাল্টা হিসেবে দিল্লি বাংলাদেশের দূতকে তলব করেছে। এরপর দুই দেশের পাল্টাপাল্টি কার্যক্রম নেমে আসে সাধারণের মধ্যে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর তাঁর হত্যাকারী পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে– এ দাবি তুলে ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল হয় ঢাকায়। এর অংশ হিসেবে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বাসার সামনে বিক্ষোভ করে ভারতীয়রা। এ সময়ে নিরাপত্তার কারণে দুই দেশই ভিসা কার্যক্রম সীমিত করে নিয়ে আসে।
তবে খালেদা জিয়ার মৃত্যু দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মোড় আনে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যক্তিগত চিঠি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের ঢাকায় শোকযাত্রায় অংশগ্রহণ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শোক বইয়ে সই করা, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রার শোক বইয়ে স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশনে ভারতীয় দূতরা গিয়ে শোক প্রকাশ করেন।
এর মধ্য দিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দিচ্ছে ভারত। তবে সে বার্তা সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। যার ফল হচ্ছে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া বলে মনে করেন কূটনীতিকরা।