জাতীয় ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা হয়েছে দেশের নানা এলাকায়। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া হয়েছে। নেত্রকোনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন করেছেন প্রার্থনা।
চট্টগ্রাম: গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতারা ঢাকায় অবস্থান করলেও এতে সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক জনতা অংশ নেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদেও গায়েবানা জানাজা হয়।
জেলার রাউজানে আলাদাভাবে দুটি গায়েবানা জানাজা হয়েছে। মুন্সির ঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের জানাজায় অংশ নেন সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা। আর নোয়াপাড়া সরকারি কলেজ মাঠের জানাজায় ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীরা।
রাজশাহী: নগরীর টিকাপাড়ায় মহানগর ঈদগাহ ময়দানে গায়েবানা জানাজা হয়। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে হয়েছে গায়েবানা জানাজা। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণমানুষের নেতা। তিনি যে রাজনৈতিক শিষ্টতা দেখিয়ে গেছেন, তা সবার জন্য অনুকরণীয়।’
রংপুর: কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গায়েবানা জানাজা হয়েছে। সকালে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ের বিএনপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মাইকে কোরআন তিলাওয়াত প্রচার করা হয়।
খালেদা জিয়ার জানাজার আগ পর্যন্ত রংপুর নগরীর ওষুধ ও খাবারের দোকান ছাড়া অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।
বগুড়া: শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এলাকার গাবতলীতে দোকানপাট তেমন খোলেনি।
জেলা শহরের নিউমার্কেট বড়গোলা, টিনপট্টি, কালীতলা, থানা রোড, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক ও কাঁঠালতলা, ছহির উদ্দিন মার্কেট, পুকুরপাড় নিউমার্কেট, বিআরটিসি শপিং কমপ্লেক্সসহ অধিকাংশ মার্কেটই এদিন বন্ধ দেখা গেছে। শহরের প্রধান কাঁচাবাজার রাজাবাজার ও ফতেহ আলী বাজারেও দোকানপাট বন্ধ ছিল।
গাবতলী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলুল বারী খোকন বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দোকানপাট বন্ধ রেখেছি।’
জেলা শহরের আলতাফুনেছা খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত গায়েবানা জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও কাগইল হাইস্কুল মাঠ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গায়েবানা জানাজা হয়েছে।
অন্যান্য: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর জয়নগর বাজারে, চাঁদপুর শহরের হাসান আলী স্কুল মাঠে, ফেনীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চর সাহাভিকারী এলাকার আলহাজ সোলায়মান ভূঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে, বরিশালের আগৈলঝাড়ার পয়সা মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানা রোডে গায়েবানা জানাজা হয়েছে।
প্রার্থনা: খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় নেত্রকোনা শহরের বড়বাজারের নরসিংহ জিউর আখড়ায় সমবেত প্রার্থনা হয়েছে। নেত্রকোনা সনাতনী সমাজ আয়োজিত প্রার্থনায় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান কল্যাণ ফন্টের আহ্বায়ক সতেন্দ্র পালসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দোয়ায় কাঁদলেন রোহিঙ্গারা
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে গায়েবানা জানাজা শেষে দোয়া ও মোনাজাত হয়েছে। এতে অংশ নিয়ে রোহিঙ্গা নেতারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা তরুণ ইউনুছ আরমানি বলেন, ‘অনেক নেতা আমাদের নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজন সত্যিই আমাদের পাশে দাঁড়ান। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন তেমনই একজন। আমরা কৃতজ্ঞ হৃদয়ে তাঁর জন্য দোয়া করছি।’