শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

স্বাস্থ্যের ডিজি’র সঙ্গে তর্কে জড়ানো চিকিৎসককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, শোকজ

জাতীয় ডেস্ক   |   রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৭৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

স্বাস্থ্যের ডিজি’র সঙ্গে তর্কে জড়ানো চিকিৎসককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, শোকজ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবু জাফরের সঙ্গে হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তর্কে জড়ানোর অভিযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার বিকেলে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গত বছর আগস্ট মাস থেকে হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণ।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাবের নির্দেশ
এদিন বিকেল চারটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস ডা. ধনদেবকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। তাকে নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাইনউদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থি। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তর্কের সূত্রপাত টেবিল নিয়ে
জানা যায়, একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে এসে স্বাস্থ্যের ডিজি মো. আবু জাফর অনুষ্ঠানের আগে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের একপর্যায়ে ডিজি ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটারে কক্ষের ভেতরে একটি টেবিল থাকার কারণ জানতে চান চিকিৎসকদের কাছে। এ সময় জরুরি বিভাগের ক্যাজুয়ালটি ইনচার্জ ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণ তাৎক্ষণিকভাবে ডিজির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে তর্কে জড়ানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণ তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। সারা জীবন প্রভাষক হিসেবে ছাত্র পড়িয়েছি। ডিজি হয়তো ক্ষমতার বলে এই চেয়ারে বসেছেন। চাকরি জীবনে তিনি আমার খুব বেশি সিনিয়র নন। তবুও আমি ডিজির কাছ ন্যূনতম ভালো ব্যবহার আশা করেছিলাম। কিন্তু তিনি এসে কী কী সমস্যা, সেগুলো জানতে না চেয়ে ভেতরে কেন টেবিল, এ নিয়ে কথা বলেন। তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। রোগী ও হাসপাতালের কর্মীদের সামনে এমন ব্যবহার কখনোই কাম্য নয়। তারা আমাকে সাসপেনশন করলে খুশি হব।’

পদোন্নতি সংক্রান্ত বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমার বন্ধুরা সব অধ্যাপক হয়ে গেছেন। আমার চাকরি জীবন শেষ, কিন্তু আমার হয়নি বিভিন্ন কারণে। এখন শেষ বয়সে এসে আমার অপমানিত হতে হয়েছে। তারা আমাকে আরও হেনস্তা করবে। আমি আর এ চাকরি করব না। স্বেচ্ছায় রিজাইন দিয়ে চলে যাব দ্রুত।’

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম