রাজনীতি ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৬৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের ফসল নেওয়ার ক্ষেত্রে সব দল এগিয়ে আসে। বিএনপি-জামায়াত গণঅভ্যুত্থানের ফসল সমানভাবে নিচ্ছে। আগামী নির্বাচনেও তারা সেই ধরনের একটা বন্দোবস্ত তৈরি করছে। যখন প্রশ্ন আসে গণঅভ্যুত্থানের দায়িত্ব নেওয়ার, তখন কিছু দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি এনসিপির দায়িত্ব।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংহতি জানানোর কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারারুদ্ধ প্রবাসীদের মুক্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত শোকরানা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপি, এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স ও জাতীয় যুবশক্তির সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘ফিরবো বাড়ি অ্যালায়েন্স’ এই আয়োজন করে।
নাহিদ বলেন, কোনো শহীদ পরিবার কিংবা জুলাইযোদ্ধারা যখন সরকারি কার্যালয় কিংবা কোনোখানে সহযোগিতার জন্য যান, তাদের দেখিয়ে দেওয়া হয় এনসিপিকে। অর্থাৎ দায়িত্ব নেওয়ার বেলায় বলবে এনসিপি, কিন্তু ফসল ভোগ করার বেলায় বলবে গণঅভ্যুত্থানে আমরা সবাই ছিলাম। তিনি বলেন, আমরা দেখছি নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে। সংস্কার কার্যক্রম নানানভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। একটি দল প্রকাশ্যে সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আরেকটি দল গোপনে সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ কারণে অনেক সংস্কার নিয়ে আমরা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি।
কিছু কিছু রাজনৈতিক শক্তি পুরোনো কাঠামোটাকেই বজায় রাখতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশঙ্কা আছে তারা গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে পারে। এ নিয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। একটি দল ‘মুক্তিযুদ্ধ বনাম রাজাকার’ কার্ড এবং আরেকটি দল ‘ধর্ম কার্ড’ খেলছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের আমলের রাজনীতিকে ফেরত আনা হচ্ছে এবারের নির্বাচনে। অথচ বিভাজনের ঊর্ধ্বে গিয়েই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রবাসীদের স্বজনেরা এতে উপস্থিত ছিলেন।