শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

এনসিপি কারও বগলে না গিয়ে প্রয়োজনে রাজপথকে সংসদ বানাবে: হাসনাত

রাজনীতি ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৫০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

এনসিপি কারও বগলে না গিয়ে প্রয়োজনে রাজপথকে সংসদ বানাবে: হাসনাত

কারো বগলে না গিয়ে প্রয়োজনে রাজপথকে সংসদ বানানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এনসিপির যৌথ সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এনসিপি জোটে বিশ্বাসী নয়। তবে যদি কেউ এনসিপির সাথে আসতে চায় তাদের আমরা স্বাগত জানাই। তবে যারা চব্বিশের জুলাই পরবর্তীতে নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে চান, আমরা তাদেরকেই চাই। যারা বাংলাদেশপন্থি এবং ফ্যাসিস্টবিরোধী আমরা তাদের চাই।’

এ সময় তিনি আইন উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে নভেম্বরের মধ্যেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিচারের রায় হবে বলে সভায় স্মরণ করিয়ে দেন। শেখ হাসিনাকে শুধু একজন ব্যক্তিই নন, ফ্যাসিস্টেও একটি আইডিয়াও হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।

সমন্বয় সভায় এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হওয়াকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কলহের রাজনীতিতে গুলি খেয়ে মরতে না চাইলে আমাদের সঙ্গে এনসিপিতে আসুন। আমরা যাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছি, তারা নিজেদের লোককেও গুলি করে মারতে দ্বিধা করে না। গুলি খেয়ে মরতে না চাইলে এনসিপি করতে হবে। আমরা-আপনারা যুদ্ধ করতে নেমেছি মাফিয়ার বিরুদ্ধে, যেখানে রয়েছেন এস আলমের মতো মানুষও।’

তিনি আরও বলেন, ‘এনসিপি নির্বাচনে সিট বণ্টন নয়, রাষ্ট্র পুনর্গঠন করতে চায়। মাফিয়াতন্ত্রের রাজনীতির কারণে মানুষ আতঙ্কে থাকেন। ভোট দিতে চান না। অথচ ভোটের ব্যালট বাক্স শক্তিশালী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুলেট শক্তিশালী করা হয়েছে। যারা এটা করছে, ক্ষমতায় গেলে আমরা তাদের বিচার করবো।’

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নয়, নির্বাচন ব্যবস্থাকে জেতাতে হবে। খোন্দকার মোস্তাক হওয়া যাবে না। শুনেছি, ব্যালট বাক্স নাকি ১২টার মধ্যেই ভরে ফেলা হবে। আমরা একজন হাসনাত আবদুল্লাহও যদি দাঁড়িয়ে যাই, তাহলে সেটা করা যাবে না। আগামীর ভোট হবে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে। আগামীর ভোট হবে বুলেটের বিরুদ্ধে, স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। এটা না হলে দেশ আবারও পিছিয়ে যাবে।’

সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের কালো গহ্বরে হারিয়ে যেতে চাই না। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। বাংলাদেশে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি চালু করতে চাই। ১০০-২০০ সিটের জন্য শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করা যাবে না।’

এ সময় তিনি আহত ও শহীদদের দায় না মিটালে উপদেষ্টাদের গাড়ির কালো কাচের ভেতর থেকে মানুষ টেনে বের করে আনবেন বলেও মন্তব্য করেন। সভায় স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টার সমালোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে তাকে বাদ দেওয়া দাবি জানান তিনি। এছাড়া সাংবাদিকদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান এবং দলকে নারী বান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

এনসিপির কতিপয় নেতাকে ইঙ্গিত করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘দলের কিছু মানুষের পদ আছে, কিন্তু তারা দায়িত্বে নেই। অথচ কিছু মানুষের পদ নেই, কিন্তু তারা দায়িত্বে আছেন। কিন্তু মূল কথা হলো পদ যার, দায়িত্বও তার। ঢাকায় থেকে চট্টগ্রামের রাজনীতি করা যাবে না। চেইন অব কমান্ড মেনে রাজনীতি করতে হবে। এলাকায় থাকা লোকজনই এলাকার রাজনীতি করবেন। কোরাম প্রথা করা যাবে না। যোগ্যদের নেতৃত্ব দিতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘দলের ভালো চাইলে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ক্লিন ইমেজের লোকজন, যারা রাজনীতি সচেতন তাদের প্রয়োজনে হাতে-পায়ে ধরে দলে আনতে এবং সামনের সারিতে রাখতে হবে। তাহলেই এনসিপি এগিয়ে যাবে। তবে যারা টাকা দিয়ে দলে আসতে চায়, তাদের নেওয়া যাবে না। চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি কোরামবাজি হচ্ছে। এভাবে কেউ একা উঠে আসতে পারবে না। বড় হতে হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বড় হতে হবে। মাই ম্যান পলিসি কখনও টিকে না। এটা হলে তো হাসিনাকে কেউ পরাজিত করতে পারতো না।’

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আল্লাহর দোহাই লাগে, কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেবেন না। দলের লোকজনের কাছ থেকে এই সেবা নেন। একেক দায়িত্ব একেকজন নেন। আমরা নিজেরাই পকেটের টাকা দিয়ে দল চালাই। প্রতি মাসে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৭/৮ লাখ টাকা জমা হয়। এই টাকা দিয়ে আমরা কর্মসূচি পালন করি।’

এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক মীর আরশাদুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজা উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হাসান আলী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক সাগুপ্তা বুশরা মিশমা, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক জুবাইরুল ইসলাম আরফি, ইমন সৈয়দ, কেন্দ্রীয় সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক, এহসানুল করিম মাহবুব।

সভায় তিন সাংগঠনিক জেলা চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে প্রশ্ন নেওয়ার পাশাপাশি দলকে এগিয়ে নিতে পরামর্শ চাওয়া হয়। এ সময় দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কার্যক্রমে অসন্তোষের কথা অকপটে তুলে ধরেন।
সভায় চট্টগ্রামের এনসিপি নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০ থেকে ১২ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী জয়লাভ করবেন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম