জাতীয় ডেস্ক | সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৬৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কাজ করতে গেলেই একটি মহল বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, সব অপচেষ্টা মোকাবিলা করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহত ও শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। রোববার ঢাকার ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শাহজাহান মিয়া ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী উপস্থিত ছিলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই নিয়ে কাজের সময় বাজেট নিয়ে প্রশ্নগুলো জনগণের টাকার প্রতি দায়বদ্ধতা নয়, এটি রাজনৈতিক অপচেষ্টা। কারণ বিগত ফ্যাসিবাদের সময় এসব প্রশ্ন ছিল না। বিগত আমলের শুধু পরামর্শক ফি দিয়েই এখন প্রায় পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে ভাস্কর্য হতো। ছোট অবকাঠামো হতে দেখেছি, যেগুলোতে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। একেকটা ভাস্কর্যের পরিকল্পনাতেই কোটি কোটি টাকা ব্যয় হতো। কিন্তু তখন তাদের এমন কথা বলতে দেখতাম না। এখন বলছে, কারণ জুলাই নিয়ে কাজ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই নিয়ে শহরে যেন কোনো কাজ না হয়, চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে এ ধরনের আলাপ তোলা হচ্ছে। এ সময় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ ও জুলাইয়ের চেতনাকে সমুজ্জ্বল রাখতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে।
স্মৃতিস্তম্ভটি একটি বৃত্তাকার বেদির ওপর নির্মিত হবে। দুই পাশে চারটি করে আটটি আয়তাকার পারসিভড কলাম এবং মাঝখানে একটি স্বতন্ত্র বৃত্তাকার কলাম থাকবে। স্বতন্ত্র বৃত্তাকার কলামের উচ্চতা হবে ৯০ ফুট। স্মৃতিস্তম্ভে প্রবেশের দুটি পথে এপিটাফ থাকবে। পুরো স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় কৃষ্ণচূড়া জাতীয় বৃহদাকার ফুলের চারা রোপণ করা হবে।
সচিবলায় ও ডিএসসিসির দুই পাশের প্রবেশ পথে দুটি অ্যাম্বিগ্রাম আদলে ইংরেজি ২৪ ও ৫ সংখ্যা তৈরি করা হবে, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণ করিয়ে দেবে। ফটকের দুই পাশে ২০টি এফিটাপে এ স্তম্ভে গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও অজ্ঞাত শহীদদের নাম লেখা থাকবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছাড়াও ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ঘটনাবলি তুলে ধরা হবে।