জাতীয় ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৬১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চলতি সপ্তাহেই জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সনদ বাস্তবায়নের আলাদা সুপারিশ করে তা সরকারকে দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ১৭টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া দলগুলোর কাছে পাঠানো হতে পারে। সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দলগুলোর কাছে লিখিত মতামত চাওয়া হয়েছে। দলগুলোর মতামত এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত সমন্বয় করে সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সুপারিশ তৈরি করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় এটি দেখানো হবে। পরে তা সুপারিশ আকারে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেওয়া হবে।
গত রোববার আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সেখানে সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ, গণভোট, সংবিধান সংস্কার সভা, রাষ্ট্রপতির ঘোষণা, অধ্যাদেশসহ একাধিক প্রস্তাব তোলা হয়।
গতকাল সোমবারের বৈঠকেও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভিন্ন ভিন্ন মতামত দেওয়া হয়। কেউ কেউ গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছেন, কেউ কেউ বলেছেন, সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা। কেউ কেউ আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। প্রায় সবাই বলেছেন, এখন বাস্তবায়ন সম্ভব এ রকম সংস্কার প্রস্তাবগুলো অন্তর্বর্তী সরকার এখনই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে ফেলতে পারে। এ বিষয়ে সবাই একমত।
বৈঠকে একাধিক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই সনদের মীমাংসা না হলে জাতীয় নির্বাচন প্রলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সবাই নিজ অবস্থানে অনড় থাকলে দেশের জন্য মঙ্গল হবে না। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে সমঝোতা খুব জরুরি।
বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সনদের চূড়ান্ত খসড়া দেওয়ার পর আর কারও মতামত নেওয়া হবে না। সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে বুধবারের মধ্যে লিখিত মত দিতে বলা হয়েছে। সনদ বাস্তবায়নের উপায় সনদের অংশ হবে না।
সোমবারের বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে–জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল– জেএসডি, বাংলাদেশ জাসদ, সিপিবি, বাসদ, বাসদ-মাকর্সবাদী, গণফোরাম, লেবার পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলামী, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, জাকের পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্টসহ ১৭টি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ইসলামী ঐক্যজোটের প্রতিনিধি অনুপস্থিত ছিলেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংবিধান সংস্কার সভার নির্বাচন যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে জেএসডি। দলটির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, শুধু সংসদের মাধ্যমে মৌলিক সংস্কার করার সীমাবদ্ধতা আছে।