জাতীয় ডেস্ক | শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | ৭৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গুমের নথি-প্রমাণ সরানো হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আবারও গুমের ঘটনা ফেরার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে রাষ্ট্রীয় মদদে গুম ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক গুমের ঘটনা না ঘটলেও বিচার প্রক্রিয়া চলছে ধীরগতিতে।
আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। সভাপতিত্ব করেন প্রেসিডেন্ট ড. তাসনিম সিদ্দিকী।
সভায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও গুম থেকে ফিরে আসা কয়েকজন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুম-খুনের ঘটনার বিচার করবে– প্রত্যাশা থাকলেও এক বছরের বেশি সময় পার হওয়ায় বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। গুমে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত ও ভুক্তভোগী পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয় সভায়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে অধিকারের জ্যেষ্ঠ গবেষক তাকসিম তাহমিনা বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। বিরোধী রাজনীতিকদের দমনে গুমকে রাষ্ট্রীয় অস্ত্র করে তারা। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ওই সরকারের পতনের পর গঠিত গুম তদন্ত কমিশনে বিপুলসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ে। কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে আসে– ‘তিন স্তরের পিরামিড কাঠামো’র মাধ্যমে গুম বাস্তবায়িত হতো, যার শীর্ষে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ-ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমেও অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন।
গুম তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এখন পর্যন্ত ২৫৩টি গুমের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুঃখজনক, কমিশনের ভেতর থেকেই এসব নথি সরানোর চেষ্টা চলছে। প্রতিটি গুমের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত বলে জানান তিনি।
আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল হোসেন বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুম হয়েছেন। এর মধ্যে এক হাজার ৮৫৩টি অভিযোগ কমিশনে জমা পড়ে। এসব গুমের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পাঁচ বাহিনী এবং সাবেক সেনাপ্রধানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে সেনাবাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্যের বিরুদ্ধে গুমে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।
সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিচার বিভাগকে উপেক্ষা করে র্যাবের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সমাধানের চেষ্টা হয়েছে। গুমের শিকার পরিবারকে আইনি সহায়তা দিতে আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। দ্রুত আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচিত হবে না বলে মনে করেন তিনি।
সভায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে ১০টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো– নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচার, র্যাব বিলুপ্তি, নিখোঁজদের সন্ধানে জাতীয় কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন, ফিরে আসা মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত, সাক্ষীসহ ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ বাতিল বা সংশোধন, প্রমাণ নষ্টকারীদের বিচারের আওতায় আনা, দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।