শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

প্রতিহিংসার রাজনীতি আর নয়

জাতীয় ডেস্ক   |   সোমবার, ০৪ আগস্ট ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১০৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রতিহিংসার রাজনীতি আর নয়

তরুণদের কাছে ধানের শীষের জন্য ভোট চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক।

গতকাল রোববার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্রদল।

সমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। সারাদেশ থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দুপুরের মধ্যেই শাহবাগে আসেন। শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন, টিএসসির রাজু ভাস্কর্য ও কাঁটাবন মোড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুরো সড়কে নেতাকর্মীরা মাথায় পতাকা বেঁধে, হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে নানা স্লোগান দেন। নেতাকর্মীরা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সংসদ নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। সড়ক বন্ধের কারণে নগরীতে তীব্র যানজট দেখা দেয়।

নেতাকর্মীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সারাদেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার একটি আহ্বান থাকবে– মন দিয়ে শোনো কী আহ্বান জানাতে চাই। তারপর সেই আহ্বান ছড়িয়ে দাও তাদের কাছে, যারা নতুন ভোটার। এসো তাহলে বলি সেই কী আহ্বান– তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক।’

তিনি বলেন, দেশে ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে গত দেড় দশকে প্রায় চার কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। ভোটার হলেও ফ্যাসিবাদ চক্র তোমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তোমাদের হারানো ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিরাট সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গঠন, বিএনপির গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা অধিকারবঞ্চিত তিন কোটি ভোটারসহ সবার সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি পরিণত দেশ। এদেশে জনগণ আর বিভেদ-বিরোধ ও প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের রাজনীতি চায় না। জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন চায়।

ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উচ্চকিত বিএনপি আগামী দিনে মানবিক মানুষ তৈরির রাজনীতি শুরু করতে চায় বলে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিএনপির আগামী দিনের নীতি কর্মসংস্থান সৃষ্টি আর নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার রাজনীতি। বিএনপির নীতি আজকের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করার রাজনীতি। মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত কর্মমুখী শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের রাজনীতি।

তিনি বলেন, বিএনপি শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার ও কর্মসংস্থান তৈরিতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিচ্ছে। একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা স্কুল পর্যায় থেকে নিজ আগ্রহের বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। বাস্তব কর্ম অভিজ্ঞতা তৈরি হলে শিক্ষাজীবন শেষে বেকারত্বের শিকার হবে না। নতুন শিক্ষা কারিকুলাম তৈরিতে দলের বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাজ করছে।

একাধিক ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক মানের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তুলতে এবং সে শিল্পের পণ্য অ্যামাজন, আলিবাবা, ইবের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাতে চাই। তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। এ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান তরুণরাই বাস্তবায়ন করবে। তাদের সরকার সহযোগিতা করবে। এতে কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ১০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণী ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে শত কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। তবে পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে সমস্যা রয়েছে। আমরা পেপাল, স্ট্রাইপ, ওয়াইজের সঙ্গে আলোচনা করেছি। রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এ ক্যাম্পাসকে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নিরাপদ ভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। আবাসন সংকট নিরসন ও খাবারের মান উন্নয়ন জরুরি। শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে ছাত্রদলকে লিখিত প্রস্তাবনা বিএনপিকে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা এবং সম্ভাবনার সুপারিশমূলক প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শুধু ৩৬ দিন নয়, তার আগে সাড়ে ১৫ বছর আমাদের ছাত্র-জনতা ও শ্রমিক প্রাণ দিয়েছেন। এ আত্মত্যাগের লক্ষ্য সুন্দর আবাসভূমি গঠন। আমাদের শিক্ষার্থীরা চায় তারা পাস করে চাকরি পাবে, প্রতিষ্ঠিত হয়ে মা-বাবার দুঃখকষ্ট দূর করবে। তারা দেশে নতুন নতুন কলকারখানা, কর্মসংস্থান দেখতে চায়। তারা দেখতে চায় ভালো মানুষ দেশ শাসন করুক, সুশাসন উপহার দিক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করেছেন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। গোটা দেশের মানুষ সেই নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। তার আগেই গোটা দেশের মানুষ অপেক্ষা করে আছেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। তাই না? আমরা সবাই চাই– উনি আসবেন, আমাদের নেতৃত্ব দেবেন, আমাদের পথ দেখাবেন।’
সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদল অংশ নিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে। যারা গণঅভ্যুত্থানের মনগড়া ইতিহাস রচনার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হবে।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম