রাজনীতি ডেস্ক | রবিবার, ০৩ আগস্ট ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৫১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ছাত্রসমাবেশে যোগ দিতে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হচ্ছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ করছে সংগঠনটি।
আজ রোববার বেলা আড়াইটায় এ সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে আগেই সারাদেশ থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরজমিনে দেখা যায়, সমাবেশ কেন্দ্র করে শাহবাগ মোড়ে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মুল মঞ্চের কাজ শেষ হলেও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলমান আছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী এসেছে জড়ো হচ্ছেন। সমাবেশস্থলের চারপাশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, উত্তর, পশ্চিম ছাত্রদলসহ ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত হয়েছেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়ছে। খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে মিলছে সমাবেশস্থলে। থেমে থেমে নেতাকর্মীদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে। কারও কারও হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা দেখা গেছে। অনেকে এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করছেন। শাহবাগ এলাকায় পাবলিক যান চলাচল বন্ধ থাকায় রাস্তার ওপরে অনেকে বসে পড়েছেন। এছাড়াও টিএসসির কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সালেহ মো. আদনান বলেন, শাহবাগে আজ ছাত্রদলের ঐতিহাসিক ছাত্রসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শাহবাগে অতীতে যত রাজনৈতিক ও ছাত্র সমাবেশ হয়েছে। এটি সবচেয়ে বড় ছাত্রসমাবেশ।
তিনি আরও বলেন, আজকের সমাবেশ অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে গত ১৭ বছর ব্যহত করা হয়েছিল। তরুণরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে খুনি শেখ হাসিনাকে বিতারিত করেছে। সেই তরুণদের ঐকবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে আজকে সমাবেশকে সফল করবো। কয়েক লক্ষাধিক নেতাকর্মী এই সমাবেশে যোগ দিবেন।
ছাত্রদলকর্মী রিফাত হাসান বলেন, সকালেই আমরা সমাবেশস্থলে পৌঁছেছি। নেতাকর্মীদের চাঙা রাখতে বারবার স্লোগান দিচ্ছি। আমাদের কর্মীরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাঠের মানুষ।
শাওন আহমেদ নামে আরেকজন কর্মী বলেন, আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি। সমাবেশ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা ধরে রাখতে একটানা স্লোগান দিয়ে যাচ্ছি। এই স্লোগানের ধারাবাহিকতা সমাবেশ শেষ পর্যন্ত বজায় থাকবে।
ছাত্রসমাবেশ প্রচার উপ-কমিটির সদস্য ঢাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান অনিক খন্দকার বলেন, আমরা অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য আলাদা লেন রেখেছি। রোগীদের যেন সমস্যা না হয়। কে কোথা হতে আসবে, কোথায় অবস্থান করবে সেগুলো নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আর আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, ঢাকা বিশ্বিদ্যালয় এরিয়ায় যেন পার্কিং না করে।
তিনি আরও বলেন, শাহবাগের মোড়ে সড়কের মূল মঞ্চ সাজানো হয়েছে। শাহবাগ মোড় থেকে মৎস্যভবন এবং টিএসসির রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ থাকবে। তবে কাঁটাবন থেকে শাহবাগে আসার সড়কটি খোলা থাকবে যেন রোগীরা চলাচল করতে পারেন। আর পিজি হাসপাতাল এবং বারডেমের সামনের সড়ক আমরা রোগীদের জন্য ফাঁকা রাখবো।
ছাত্রদলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধান বক্তা হিসাবে থাকবেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক রকিবুল ইসলাম বকুল। সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সঞ্চালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।