শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

চেন্নাইয়ে অসম্ভবের পিছু ধাওয়া

খেলাধুলা ডেস্ক   |   রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৩৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

চেন্নাইয়ে অসম্ভবের পিছু ধাওয়া

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের পরই চেন্নাই টেস্টের ফল ‘ফাঁস’ হয়ে গেছে! আমজনতা থেকে ক্রিকেটবোদ্ধা সবাই জেনে গেছেন, ভারতের কাছে প্রথম টেস্ট হারবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। এখন লড়াইটুকু কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর। এমন পরিস্থিতিতেও কেন যেন চাপহীন খেলতে পারছেন না ব্যাটাররা। কারণে-অকারণে উইকেট বিসর্জন দিয়ে পরাজয়কে ত্বরান্বিত করতে ছটফট করতে দেখা গেছে তাদের ২২ গজে। গেম প্ল্যানে নিশ্চয়ই আত্মঘাতী কিছু থাকে না। এর পরও কেন সাদমান ইসলাম, জাকির হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমদের এমন দায়িত্বহীন ব্যাটিং? এই চারজনের ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি, তাদের নাকের ডগায় ৫১৫ রানে লক্ষ্য ঝুলিয়ে দিয়েছে ভারত। এই রান অসম্ভব এক লক্ষ্য, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যা তাড়া করার রেকর্ড নেই। তাই বলে বড় স্কোর তাড়া করতে নেমে কোনো দল হারের আগে হাল ছেড়ে দেয় বলে জানা নেই। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সে মানসিকতার অভাব দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন ভারতের সাংবাদিকরাও। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্পকেও ব্যাটারদের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করার পর পারফরম্যান্স ব্যবচ্ছেদ অনেক ইতিবাচক ছিল। আশা করা হয়েছিল, ভারতের বিপক্ষেও লড়াকু মানসিকতায় দেখাবেন শান্তরা। একমাত্র পেস বোলিং বিভাগ ছাড়া চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা অনুপস্থিত। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৮ রান। বেঁধে দেওয়া লক্ষ্য থেকে ৩৫৭ রান পেছনে। অর্থাৎ জিততে হলে বাকি দু’দিনে ওই রান করতে হবে শান্তদের। চতুর্থ ইনিংসে যেটা প্রায় অসম্ভব এক ব্যাপার। টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ (১৪৭) বছরের ইতিহাসে কেউ যা দেখেনি, এই বাংলাদেশের কাছে সে রেকর্ড কেউ আশাও করে না। শেষ পর্যন্ত লড়াই দেখতে পেলেই সমর্থকরা খুশি থাকবেন।

সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আসা শুভমান গিল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেছেন, ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ভালো আছে। লম্বা সময় পর টেস্টে ফেরা ঋষভ পন্তও সেঞ্চুরি করেছেন। জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ২৮৭ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। জবাব দিতে নেমে ভালো শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। জাকির ও সাদমান ৬২ রান তুলে নিয়েছিলেন। বুমরাহর বল বুঝতে না পারায় ৩৩ রানে ক্যাচ দেন জাকির। সেট হওয়া জুটির বিচ্ছেদ হতেই শুরু হয় আসা-যাওয়া। অশ্বিনের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে আউট সাদমান ৩৫ রানে। মুমিনুল তো অশ্বিনের নিচু বলে বোল্ড। যার কাছে সবচেয়ে বেশি আশা ছিল, সেই মুশফিক আত্মাহুতি দেন মিডঅনে ক্যাচ তুলে। আগের বলে ছয় মারার জোসে অবিবেচকের মতো ডাউন দ্য উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। এই যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেননি শুধু অধিনায়ক। হাফ সেঞ্চুরি করে অপরাজিত তিনি। ৫ রান নিয়ে তাঁর সঙ্গে আছেন সাকিব।
ভারত দিন শুরু করেছিল শুভমান গিল ও ঋষভ পন্তের দৃঢ়তায়। চতুর্থ উইকেটে দাপটের সঙ্গে তারা ১৬৭ রানের জুটি গড়েন। পন্ত গিলের পরে উইকেটে গেলেও সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন আগে। দুই স্পিনার সাকিব ও মিরাজের বলে দ্রুত রান তুলে ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি পূরণ করেন উইকেটকিপার এ ব্যাটার। মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত পন্ত ৬৩৪ দিন পর প্রিয় সংস্করণ টেস্টে ফেরাটা সেঞ্চুরি দিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন। হাফ সেঞ্চুরির পরই সাকিবের বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অধিনায়ক শান্ত তা ধরতে পারেননি। পন্তের আউটের সময়ও সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরে ছিলেন গিল। জুটি ভাঙার পর বড় শট খেলে সেঞ্চুরি তুলে নেন শুভমান।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম