শনিবার ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ট্রাভেল এজেন্টের খামখেয়ালীতে হজ্ব নিয়ে হয়রানি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   261 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ট্রাভেল এজেন্টের খামখেয়ালীতে হজ্ব নিয়ে হয়রানি

ট্রাভেল এজেন্টদের খামখেয়ালীতে ২ শতাধিক প্রবাসীর হজ্বে যাওয়া হলো না। সবকিছুর প্রস্তুতি নেবার পরও নিউইয়র্কে বসবাসরত  বাংলাদেশিরা হজ্বে যেতে পারেন নি। হজ্বের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ (সিকিউরিটি ডিপোজিট) জমা দেবার পর এ ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই পারিবারিকভাবে হজ্বে যাবার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহুর্তে তাদের জানানো হয় ভিসা ও টিকেট কোনটাই হয়নি। মাথায় হাত পড়ে তাদের। নিয়ত করার পরও তাদের আল্লাহ’র ঘরে যাবার ইচ্ছের পরিসমাপ্তি ঘটে। এ ঘটনাা নিয়ে হজ্ব আগ্রহী প্রবাসীদের মধ্যে মরাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ট্রাভেল এজেন্টরা ভুক্তভোগী হজ্ব প্রতাশাী মুসুল্লীদের ডিপোজিট মানি ফেরত দিতে গড়িমসি করছেন বলেও অভিযোগ উঠে।এমন ঘটনা ঘটেছে নিউইয়র্কের ২টি ট্রাভেল এজেন্সীর অপরিপক্ক ও অপেশাদার কর্মকান্ডের কারনেই। এজেন্সী ২টি হচ্ছে রহমানিয়া ও জমজম ট্রাভেল। হজ্বে যাবার জন্য তাদের কাছে অর্থ জমা দিয়েছিলেন কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও বারী হোম কেয়ারের কর্নধার আসেফ বারী টুটুল। কিন্তু শেষ মুর্হূতে তিনি জানতে পারেন সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্ট তার পরিবারের হজ্ব প্যাকেজ চুড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। জ্বনাব বারী দ্রুত অধিক অর্থ ব্যয় করে বিশেষ মর্যাদায় ও স্পেশাল প্যাকেজে হজ্বে গমন করেন। কিন্তু জয়নাল আবেদীন, জসিম ভূইঁয়া ও নয়নের মতো অনেক বাংলাদেশি হজ্বে যেতে ব্যর্থ হন।

রহমানিয়া ট্রাভেলস এর প্রেসিডেন্ট এম কে রহমান মাহমুদের দৃষ্টি আর্কষন করা হয় নিউইয়র্ক কগজ এর পক্ষ থেকে। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, নুসক এর তত্ত্বাবধানে আমরা হজ্ব প্যাকেজ পরিচালনা করেছিলাম। এতে প্রবাসী বাংলাদেশি কিছু হজ্বযাত্রী এই প্যাকেজের মাধ্যমে হজ্ব করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ডলার করে ডিপোজিট মানিও নিয়েছিলাম। কিন্তু নসুকের কোটা জটিলতার কারনে আমাদের কিছু যাত্রী হজ্বে যেতে পারেন নি। এ জন্য আমরা দুঃখিত। তবে সকল যাত্রীর অর্থ আমরা ফেরত দিয়েছি। কারও টাকা আটকে রাখা হয়নি। একজন যাত্রীও এ অভিযোগ করতে পারবেন না। রহমানিয়া ট্রাভেলস বহুবছর ধরে সুনামের সাথে এ ব্যবসা করে আসছে। আপনাদের দোয়ায় যেন তা সুনামের সাথে  পরিচালনা করতে পারি।

জমজম ট্রাভেলের কর্ণধার তৌহিদ মাহবুব মুন্না। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ১০ বা ১২ জন আমার ক্লায়েন্ট ছিলেন। তারা সকলেই আমাদের নিজস্ব লোক। তাদের বলেছিলাম, নসুকের মাধ্যমে হজ্ব প্যাকেজ চালু হচ্ছে। এটি একটি নতুন পদ্ধতি। আপনারা যেতে চাইলে আমরা চেষ্টা করতে পারি। তারা আগ্রহী হয়ে ডিপোজিট মানিও জমা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নসুকের অনুমোদিত হজ্ব প্যাকেজ প্রোভাইডার আল বায়াত ও আল রায়া প্রতিষ্ঠান দুটি কোটা স্বল্পতার কারনে অপারগতা প্রকাশ করে। সাথে সাথে আমরা তা ক্লায়েন্টদের অবহিত করি এবং তাদের টাকা ফেরত দেই। যারা নিয়ত করে হজ্বে যেতে পারেননি তাদের কাছে আমরা দুঃখিত। তাদের একটি পয়সাও আমরা আটকে রাখিনি। যা ঘটেছে তা অপ্রত্যাশিত। আমাদের হাতে নিয়ন্ত্রন ছিল না।

আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্টস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি মোহাম্মদ হারুন সেলিম। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি নিউইয়র্ক কাগজকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তা মোটেও ভালো না। যারা এমন একটি নতুন প্রক্রিয়ায় হজ্বে লোক পাঠানোর উদ্যোাগ নিচ্ছিলেন তাদের সাথে আমার কথাও হয়েছিল। তাদেরকে সর্তকতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছিলাম। যারা ক্লায়েন্ট ছিলেন তাদেরও উচিত ছিল যেনেশুনে হজ্বে যাবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নেয়া। জমজম ট্রাভেল আমাদের আটাবের সদস্য নয়। আমি বিংহ্যাম্পটন যাচ্ছি। সেখান থেকে ফিরে রহমানিয়া ট্রাভেলস এর মাহমুদ ভাইয়ের সাথে এ ব্যপারে কথা বলবো। এমন পরিস্থিতিতে আটাবের কিছু করনীয় থাকলে তা কমিটির সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

ডিজিটাল ট্রাভেলস এস্টোরিয়ার সিইও নজরুল ইসলাম।  ১৯ বছর ধরে তিনি এ ব্যবসায় জড়িত। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের হুদা ভাই আমাদের এই ব্যবসাকে মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এবার হজ্বের নামেও ট্রাভেল ব্যবসাকে সমালোচনায় এনেছেন অনেকে। হজ্ব গমনে প্রত্যাশী মানুষের অনুভুতিতে আঘাত করা হয়েছে। প্রায় ২০০ বাংলাদেশি আমেরিকান তাদের কারনে হজ্বে যেতে পারলেন না। এটা লজ্জাজনক।

সম্প্রতি সৌদি মিনিস্ট্রি অব হজ্ব এর অধীনে নসুক হজ্ব প্যাকেজ বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। যা সম্পূর্ন অনলাইন পোর্টাল নির্ভর। তাদের হয়ে সৌদি বেজড আলবায়াত ও আল রায়ার মতো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হজ্বের জন্য প্রাইভেট প্যাকেজ বিক্রি শুরু করে। তাদের কাছে প্রায় ১ হাজারের মতো কোটা ছিল। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি দুটি ট্রাভেল এজেন্ট রহমানিয়া ও জমজম ট্রাভেল তাদের সাথে যোগাযোগ ও অনুমোদন নিয়ে হজ্ব প্যাকেজ বিক্রি শুরু করে। কিন্তু এই প্যাকেজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাংলাদেশি ২টি ট্রাভেল এজেন্টের ভাগ্যে তা জোটে নি। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও হজ্বে যেতে পারলেন না।

Facebook Comments Box

Posted ৬:০৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

nykagoj.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম
Contact

+1 845-392-8419

E-mail: nykagoj@gmail.com