শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

বিএনএম অফিস চেনে না কেউ

রাজনীতি ডেস্ক   |   সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১৪৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিএনএম অফিস চেনে না কেউ

রাজধানীর মহাখালীর আমতলী এলাকায় বীরউত্তম জিয়াউর রহমান সড়কে মোল্লা ভবনের চতুর্থ তলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) প্রধান কার্যালয়। গতকাল রোববার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়টিতে কোনো নেতাকর্মী নেই। এটি যে বিএনএমের কার্যালয়– সেটিও বলতে পারেন না আশপাশের লোকজন।

সরু সিঁড়ি দিয়ে মোল্লা ভবনের চতুর্থ তলায় বিএনএমের প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশের আগে এক পাশে একটি মোবাইল ফোনের দোকান, আরেক পাশে একটি বাসা। তৃতীয় তলায় একটি হোমিও ওষুধের এবং একটি ফার্নিচারের দোকান। দ্বিতীয় তলা ও নিচতলাতেও রয়েছে কয়েকটি দোকান। এর মধ্যে জ্যোতি লেকার অ্যান্ড হার্ডওয়্যার সেন্টারের মালিক আব্দুস সোবহান জানান, এই ভবনে কোনো রাজনৈতিক দল রয়েছে বলে তাঁর জানা নেই। কখনও নেতাকর্মীও দেখেননি। একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে যেভাবে লোকসমাগম ঘটে, তার কিছুই দেখেননি তিনি।

বিএনএমের প্রধান কার্যালয় কি এই ভবনে– জানতে চাইলে ইউনিক ইন্টেরিয়রের এক কর্মচারী বলেন, ‘চিনি না।’ একটু সময় নিয়ে পরে তিনি বলেন, ‘শুনেছি, ওপরে একটি দলের অফিস আছে। এ রকম তো ঢাকা শহরে অনেক জায়গায় আছে। এটাও হয়তো সে রকম।’

তবে বিএনএমের এক নেতা জানান, আগে তাদের কার্যালয় ছিল রাজধানীর পুরানা পল্টনে। গত এপ্রিলে তারা মহাখালীর আমতলীতে তাদের অফিস নিয়ে এসেছেন। সে কারণেই হয়তো অনেকে চেনেন না।

গঠনতন্ত্রে ১৫টি অঙ্গসংগঠন ও তিনটি সহযোগী সংগঠনের কথা বলেছে বিএনএম। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য তারা ২২টি জেলা কমিটি ও ১০৪টি থানা-উপজেলা কমিটিও জমা দিয়েছে। তবে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অনেক জেলা ও উপজেলায় বিএনএমের কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিএনএমের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, ২০২১ সালের ৭ জুলাই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের পর কেন্দ্রীয় কমিটির ১০টি বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। আমতলীর কার্যালয়ে একজন অফিস সহকারী রয়েছেন। মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাড়ায় নেওয়া হয় কার্যালয়টি। এখান থেকেই পরিচালিত হয় দাপ্তরিক কার্যক্রম।

প্রধান কার্যালয়ে লোকজন নেই কেন– এ প্রশ্নে বিএনএমের আহ্বায়ক ড. আবদুর রহমান জানান, তাদের দলের প্রত্যেকেই কর্মজীবী। এ জন্য সন্ধ্যার পর ছাড়া কেউ কার্যালয়ে যেতে পারেন না। সারাদেশে দলীয় কার্যালয় বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে যেসব জেলা এবং থানা ও উপজেলায় কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া আছে, তা শতভাগ ঠিক। তাদের নেতাকর্মী সেখানে নিয়মিত বসেন এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

বিএনএমের খুলনা জেলা কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া আছে ১ নম্বর মিয়াবাড়ী মেইন রোড, পিটিআই মোড়, খুলনা। কিন্তু ওই ঠিকানায় মিয়াবাড়ী নেই বলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়। সিলেট জেলার ঠিকানা হিসেবে দেওয়া আছে সারেংবাড়ী, টিনছাট, গাছবাড়ী, কানাইঘাট, সিলেট। সেখানেও বিএনএমের কার্যালয় চেনেন না বলে জানান স্থানীয়রা। পিরোজপুরের কাউখালীর লোকজন জানান, মাস দুয়েক আগে কে বা কারা এই দলের নামে একটি সাইনবোর্ড বাসস্ট্যান্ডে একটি দোকানঘরের সামনে লাগিয়েছিল। কিন্তু এখন সেটি নেই। এখন সেখানে একটি ওয়ার্কশপ।

দলটির ঢাকা জেলা কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে কুটিরচর, সুয়াপুর, ধামরাই। কিন্তু বিএনএম-ঢাকা জেলার আহ্বায়ক মিঠু মোল্লা জানান, সাভার থেকে তাদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয়।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম