জাতীয় ডেস্ক | সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
‘মব বলার পেছনে জুলাই বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মানসিকতা কাজ করে’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তাই ‘মব’ শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতার পরামর্শ দেন তিনি। তবে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর ওই অনুষ্ঠানেই কয়েকজন বক্তার সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তাঁর বক্তব্যকে ‘থ্রেট (হুমকি)’ বলে উল্লেখ করেন তারা।
গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতিসংলাপ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তি, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের আলোচনায় বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা নিয়ে সংকটের পাশাপাশি মবের বিষয়টি উঠে আসে।
নীতিসংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, এখন বিচার বিভাগের নয়, মবোক্রেসির শাসন দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে বিচার হচ্ছে। পরিস্থিতি যদি এমন থাকে, তথাকথিত তৌহিদী জনতা আইন নিজের হাতে নিতে পারে।
পরে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিপ্লবের আগে-পরে যে কোনো সময় অবিচারকে প্রশ্রয় দিলে তা পাল্টা আঘাত করবেই। মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, এখন মব সরকারকে খেয়ে ফেলছে। নির্বাচন কমিশনকে খেয়ে ফেলছে। দেশকেও খেয়ে ফেলতে পারে।
পরে এ দুই বক্তার বক্তব্যকে উদ্দেশ করে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে গণভবনের পতনের যে আন্দোলন, তার সঙ্গে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর কেউ যদি রাস্তায় ছিনতাইকারী অথবা কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু পিটিয়ে হত্যা করে– দুটোকে একসঙ্গে বিচার করা যাবে না। মব শব্দটা প্রয়োগের আগে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে একাধিক বক্তা চিফ প্রসিকিউটরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। একে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বিএনপি নেত্রী নিলোফার চৌধুরীও ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
নিলোফার চৌধুরী বলেন, ‘চিফ প্রসিকিউটর বলে গেলেন মবকে মব বলা যাবে না। … আচ্ছা, আমরা যে নামেই ডাকি না কেন, এটা তো সত্যি। এটা তো উনি বলে যেতে পারলেন না যে, এইসবের আইনের অনুশাসন কায়েম আছে, বিচার হচ্ছে।’
তিনি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম যেদিন একজন অর্ধ পাগলকে সারারাত খাইয়ে আবার পিটিয়ে যখন মেরে ফেলল, আমরা কি সেই বিচারটা হতে দেখেছি; দেড় বছর চলে গেছে।
নিলোফার বলেন, পরে জানা গেল তিনি মোবাইল তো চুরি করেন নাই। এমন একজন মানুষকে সারারাত টর্চার করল, যেটা আমরা আবরারের সময় দেখেছিলাম। দলীয় সরকার এলো, নির্দলীয় সরকার এলো, আমরা কি ওই জায়গা থেকে আলাদা হতে পেরেছি? পারিনি।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আইনের শাসন চান, আবার মবকে উস্কান– এটা বাংলাদেশে চলতে পারে না।’ মব সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এই টেবিলে বসে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেছিলেন, মব বলে কিছু নেই। এরা হচ্ছে প্রেশার গ্রুপ। এই জাস্টিফিকেশন (বৈধতা) দাঁড় করানোর কয়েক দিন পর আমরা দেখলাম, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার, তারপর দেখলাম তারা আর মব নিয়ে কথা বলছেন না। এখন আবার যখন তারা মবের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন, আমরা আশঙ্কা করছি, অচিরেই হয়তো আমাদের ওই রকম কিছু ঘটনা বা দুর্ঘটনা দেখতে হতে পারে।’
সংলাপে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘তাত্ত্বিকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা আইন করা দরকার, সবই আমরা করেছি। এর ধারাবাহিকতায় পুরোপুরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও পাঁচ থেকে ১০ বছর লাগবে। নির্বাচিত সরকার এ ধারা অব্যাহত রাখলে জনগণ সংস্কারের সুফল পাবে।’ তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বড় চ্যালেঞ্জ। আইনের শাসনের পথে আমরা অনেকটা এগিয়ে গেছি। নির্বাচিত সরকার যদি পরে আন্তরিকতা না দেখায়, তবে আমরা এর সফলতা অর্জন করতে পারব না। তবে জবাবদিহিতা ছাড়া অসীম স্বাধীনতা সুফল বয়ে আনে না। এ জন্য উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কার দরকার।‘মব বলার পেছনে জুলাই বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মানসিকতা কাজ করে’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তাই ‘মব’ শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতার পরামর্শ দেন তিনি। তবে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর ওই অনুষ্ঠানেই কয়েকজন বক্তার সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তাঁর বক্তব্যকে ‘থ্রেট (হুমকি)’ বলে উল্লেখ করেন তারা।
গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতিসংলাপ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তি, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের আলোচনায় বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা নিয়ে সংকটের পাশাপাশি মবের বিষয়টি উঠে আসে।
নীতিসংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, এখন বিচার বিভাগের নয়, মবোক্রেসির শাসন দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে বিচার হচ্ছে। পরিস্থিতি যদি এমন থাকে, তথাকথিত তৌহিদী জনতা আইন নিজের হাতে নিতে পারে।
পরে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিপ্লবের আগে-পরে যে কোনো সময় অবিচারকে প্রশ্রয় দিলে তা পাল্টা আঘাত করবেই। মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, এখন মব সরকারকে খেয়ে ফেলছে। নির্বাচন কমিশনকে খেয়ে ফেলছে। দেশকেও খেয়ে ফেলতে পারে।
পরে এ দুই বক্তার বক্তব্যকে উদ্দেশ করে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে গণভবনের পতনের যে আন্দোলন, তার সঙ্গে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর কেউ যদি রাস্তায় ছিনতাইকারী অথবা কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু পিটিয়ে হত্যা করে– দুটোকে একসঙ্গে বিচার করা যাবে না। মব শব্দটা প্রয়োগের আগে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে একাধিক বক্তা চিফ প্রসিকিউটরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। একে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বিএনপি নেত্রী নিলোফার চৌধুরীও ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
নিলোফার চৌধুরী বলেন, ‘চিফ প্রসিকিউটর বলে গেলেন মবকে মব বলা যাবে না। … আচ্ছা, আমরা যে নামেই ডাকি না কেন, এটা তো সত্যি। এটা তো উনি বলে যেতে পারলেন না যে, এইসবের আইনের অনুশাসন কায়েম আছে, বিচার হচ্ছে।’
তিনি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম যেদিন একজন অর্ধ পাগলকে সারারাত খাইয়ে আবার পিটিয়ে যখন মেরে ফেলল, আমরা কি সেই বিচারটা হতে দেখেছি; দেড় বছর চলে গেছে।
নিলোফার বলেন, পরে জানা গেল তিনি মোবাইল তো চুরি করেন নাই। এমন একজন মানুষকে সারারাত টর্চার করল, যেটা আমরা আবরারের সময় দেখেছিলাম। দলীয় সরকার এলো, নির্দলীয় সরকার এলো, আমরা কি ওই জায়গা থেকে আলাদা হতে পেরেছি? পারিনি।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আইনের শাসন চান, আবার মবকে উস্কান– এটা বাংলাদেশে চলতে পারে না।’ মব সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এই টেবিলে বসে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেছিলেন, মব বলে কিছু নেই। এরা হচ্ছে প্রেশার গ্রুপ। এই জাস্টিফিকেশন (বৈধতা) দাঁড় করানোর কয়েক দিন পর আমরা দেখলাম, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার, তারপর দেখলাম তারা আর মব নিয়ে কথা বলছেন না। এখন আবার যখন তারা মবের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন, আমরা আশঙ্কা করছি, অচিরেই হয়তো আমাদের ওই রকম কিছু ঘটনা বা দুর্ঘটনা দেখতে হতে পারে।’
সংলাপে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘তাত্ত্বিকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যা যা আইন করা দরকার, সবই আমরা করেছি। এর ধারাবাহিকতায় পুরোপুরি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও পাঁচ থেকে ১০ বছর লাগবে। নির্বাচিত সরকার এ ধারা অব্যাহত রাখলে জনগণ সংস্কারের সুফল পাবে।’ তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বড় চ্যালেঞ্জ। আইনের শাসনের পথে আমরা অনেকটা এগিয়ে গেছি। নির্বাচিত সরকার যদি পরে আন্তরিকতা না দেখায়, তবে আমরা এর সফলতা অর্জন করতে পারব না। তবে জবাবদিহিতা ছাড়া অসীম স্বাধীনতা সুফল বয়ে আনে না। এ জন্য উচ্চ আদালতেও কিছু সংস্কার দরকার।