জাতীয় ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কোনো ধরনের আড়ম্বর বা অনুষ্ঠান ছাড়াই গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে বছরের শেষ সূর্যকে বিদায় জানালেন লক্ষাধিক পর্যটক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গতকাল দেশজুড়ে পালিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় শোক। ফলে অন্যান্য বছরের মতো এবার থার্টিফার্স্ট নাইট বা বছরের শেষ দিনটিতে উভয় সৈকতের কোথাও ছিল না কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন। কক্সবাজারের তারকামানের হোটেলগুলো তাদের থার্টিফার্স্ট নাইটের আয়োজন বাতিল করেছে। ফলে সৈকতে অস্তগামী সূর্যকে পেছনে রেখে সাগরের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে ও ছবি তুলেই ২০২৫ সালকে বিদায় জানিয়েছে সবাই।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানান, থার্টিফাস্ট নাইট উদযাপন উপলক্ষে কক্সবাজার শহর এলাকাসহ সমুদ্রসৈকতে আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আতশবাজি ও পটকা বিক্রি বন্ধ রাখার। উন্মুক্ত স্থান ও রাস্তায় প্রকাশ্যে কোনো ধরনের কনসার্ট, নাচ কিংবা গানের অনুষ্ঠান আয়োজন না করার জন্যও নির্দেশনা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার সব বার ও মদের দোকানে মদ কেনাবেচা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বিকেল ৪টায় সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, এক কিলোমিটার সৈকতে অন্তত ৫০ হাজার পর্যটকের সমাগম হয়েছে। ভাটার কারণে পানি নেমে যাওয়ায় দেখা দেয় বিশাল বালুচর। সেখানে প্রিয়জনদের নিয়ে বছরের শেষ সূর্যাস্তের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছিলেন পর্যটকরা। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সূর্য ডুবে যাওয়ার সময় অনেকেই হুল্লোড় শুরু করে দেন। অনেকে হাত তুলে বিদায় জানান সূর্যকে। অনেককে উচ্চ স্বরে বলতে শোনা যায়, বিদায় ২০২৫। সৈকতের কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টেও দেখা যায় একই দৃশ্য।
হোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে কক্সবাজার শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৯০ শতাংশ রুম পর্যটকে ভরা। হোটেলগুলোর দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় এক লাখ ৬৭ হাজার। গত ২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে অন্তত সাড়ে আট লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন।
তারকা হোটেল ওশ্যান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, ‘কক্সবাজারে বিশ্বমানের পর্যটন বিকাশে আমরা শুরু থেকেই বাংলা নববর্ষ, থার্টিফার্স্ট নাইটসহ নানা দিবসকে পর্যটকদের কাছে উপভোগ্য করে তুলি। এবারও বলরুমে ইনহাউস গেস্টদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ডিজে পার্টির আয়োজন ছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আয়োজন সীমিত করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, প্রতিবছর বিপুল পর্যটক সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখে পুরোনো বছরকে বিদায় জানান। তবে ঘন কুয়াশা থাকায় এবার সূর্যাস্ত ভালোভাবে দেখা যায়নি। সৈকত ও উন্মুক্ত স্থানে কোনো আয়োজন না থাকলেও পর্যটকের আগমন থেমে নেই।
কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল বুকিং, নেই কোনো আয়োজন
এদিকে থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপভোগে কুয়াকাটা সৈকতেও গতকাল ভিড় করেছিলেন পর্যটকরা। তবে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে কিছু পর্যটক হোটেল-মোটেলের অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে বড় আয়োজন না থাকারও প্রভাব পড়েছে পর্যটক আগমনে। রাষ্ট্রীয় শোক পালনে সরকারি নির্দেশনা যাতে সবাই মেনে চলে, সে জন্য কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
হোটেল সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের এজিএম আল-আমিন উজ্জ্বল জানান, থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কুয়াকাটায় বড় কোনো আয়োজন নেই। তাই আমরা ইনডোরে পর্যটকদের জন্য আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শোকে সব ইনডোর প্রোগ্রাম বাতিল করেছি। আজ (বুধবার) থেকে তিন দিনের ভালো বুকিং ছিল। কিন্তু সকাল থেকে প্রায় ২০ শতাংশ রুম বুকিং বাতিল হয়ে গেছে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রুম বুকিং রয়েছে। তবে মাঝারি মানের হোটেলগুলোতে বুকিং সংখ্যা কম।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, তিন-চার দিন ধরে অনেক শীত। পাশাপাশি দেশব্যাপী শোকের ছায়া নেমে আসায় অনেক হোটেলে বুকিং বাতিল হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটকদের আগমনও খুব কম।