নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ১১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসের ডেস্কের পেছনো বসে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক সিটির নব নির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। উভয়েই এক অপরের প্রসংশা করছিলেন। নিউইয়র্ক সিটির উন্নয়নে একসাথে কাজ করার আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেয়র মামদানির গায়ে হাত দিয়ে ভূয়সী প্রসংশা করছিলেন। বলছিলেন, মামদানি একজন যুক্তিবাদী। সে দারুণ একজন মেয়র হবেন। তারা উভয়েই হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠককে “ফলপ্রসূ” বলে অভিহিত করেছেন। অথচ ২ মাস আগেও ট্রাম্প মামদানিকে কমিউনিস্ট, আর মামদানি ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। সাংবাদিকরা দুই নেতাকে আগের মন্তব্য নিয়ে মুখোমুখি করাতে চাইলেও দুজনেই বেশ হাসিমুখে পরিস্থিতি সামাল দেন। ট্রাম্পকে যখন মনে করিয়ে দেওয়া হয় তিনি মামদানিকে “কমিউনিস্ট” বলেছেন, জবাবে বলেন—মামদানি অনেককে চমকে দিতে পারেন। আর মামদানি ট্রাম্পকে অতীতে “স্বৈরশাসক” বলেছিলেন—এ কথা তুলতেই প্রেসিডেন্ট হেসে বলেন, “আমাকে এর চেয়ে খারাপও বলা হয়েছে!” গত শুক্রবার ট্রাম্প ও মামদানি এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে আধা ঘন্টাব্যাপী এক অপরের প্রসংশা করছিলেন। রাজনৈতিক বৈরিতার বরফ গলিয়েছেন। শুক্রবারের বৈঠকে এটাই প্রমানিত হয়েছে তাদের উভয়ের মধ্যেই একটি ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। রাজনীতিতে শেষ কথা বলে যে কিছু নেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জোহরান মামদানির বৈঠক তা আবার প্রমাণ করলো।
ট্রাম্প মামদানির প্রসংশা করে বলেছেন, “আমি মনে করি, আপনি (মামদানি) একজন সত্যিই দুর্দান্ত মেয়র হবেন। তিনি যত ভালো করবেন, আমি তত বেশি খুশি হব”। ট্রাম্প যখন এ কথা বলছিলেন, মামদানি তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি মামদানির গায়ে হাত দিয়ে বলেন, আমাদের কোন কিছুর মধ্যে পার্থক্য নেই। তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করব। একটি শক্তিশালী এবং অত্যন্ত নিরাপদ নিউইয়র্ক থাকা আমাদের উভয়ের কাম্য। তিনি মামদানিকে “যুক্তিবাদী” বলেও উল্লেখ করেছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরে তার জন্য উল্লাস করবো। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সমস্যা ও খাদ্য সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনেষের দাম কমানোর ব্যাপারে আমরা আলোচনা হয়েছে।।
মামদানি বলেন, আমরা শহরে অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়ে কথা বলেছি। নিউ ইয়র্কের আশেপাশে ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস পুলিশ) কর্মকর্তাদের মোতায়েনের বিষয়ে উদ্বেগের কথা বলেছি।
মামদানির উপর তার অতীতের আক্রমণ এবং তাকে “কমিউনিস্ট” বলার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, ট্রাম্প বলেন, নবনির্বাচিত মেয়র তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারেন এবং এমনকি কিছু রক্ষণশীলকেও প্রভাবিত করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমি খুব আত্মবিশ্বাসী যে তিনি খুব ভালো কাজ করতে পারবেন। আমার মনে হয় তিনি আসলে কিছু রক্ষণশীল মানুষকে অবাক করে দেবেন। আর আমাকেও তো স্বৈরশাসকের চেয়ে অনেক খারাপ বলা হয়েছে।হোয়াইট হাউজে বৈঠকের তারা ক্যামেরার সামনে ৩০ মিনিট উপস্থিত ছিলেন। একজন প্রতিবেদক মামদানিকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি কি এখনও ট্রাম্পকে একজন ফ্যাসিস্ট মনে করেন কিনা ? মামদানি কিছু বলার আগেই ট্রাম্প মামদানি গায়ে থাপ্পড় মেরে বলেন, তিনি “শুধু হ্যাঁ বলতে পারেন”। “ব্যাখ্যা করার চেয়ে এটা সহজ”।
মামদানিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে নিউ ইয়র্কবাসীরা “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভালোবাসে” কিনা। মামদানি বলেন, নিউ ইয়র্কবাসী একটি কম খরচের আবাসন চায়।
একজন প্রতিবেদক ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেন, রিপাবলিক্যান কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিক মামদানিকে জেহাদি বলে অভিহিত করেছিলেন। আপনার পাশে কি একজন জেহাদি দাঁড়িয়ে আছেন? ট্রাম্প বলেন, না। আমি তা মনে করি না। … আমি একজন ব্যক্তির সাথে দেখা করেছি যিনি খুব যুক্তিবাদী ব্যক্তি। আমি এমন একজন ব্যক্তির সাথে দেখা করেছি যিনি সত্যিই নিউইয়র্ককে আবার মহান দেখতে চান।” । ট্রাম্পের ভাষায়, “সে যত ভালো করবে, আমি তত খুশি হবো। দল—মত এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ ও শক্তিশালী নিউইয়র্ক।”
মামদানি বৈঠককে ’আশাব্যঞ্জক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আলোচনায় বাসা ভাড়া, বাজার, ইউটিলিটি বিলসহ শহরের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “সাড়ে আট মিলিয়ন মানুষ এই শহরকে ঘর বলে। তাদের জীবন একটু সহজ করা—এটাই আমাদের লক্ষ্য।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, সে অন্যরকম। হঠাৎই উঠে এলো এবং এমন একটা প্রাইমারি জিতল, যা কেউ ভাবেনি। দারুণ কাজ করেছে। মতভেদ থাকবে, তবে নিউইয়র্কের স্বার্থে দু’জনই সমাধানের পথ খুঁজবো। সে যদি সফল হয়, আমিও খুশি হবো। নিউইয়র্ককে আরও ভালো করতে যা দরকার—আমরা তাকে সাহায্য করবো।”
হোয়াইট হাউজের এই বৈঠক শুধু রাজনৈতিক নাটকীয়তা নয়। বরং দুই ভিন্নমতের নেতার মধ্যে অপ্রত্যাশিত সৌহার্দের এক বিরল মুহূর্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।