বাংলাদেশ ডেস্ক | শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | ৮৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজাধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গতকাল শুক্রবার সকালে অনুভূত ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও হলে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শামসুন্নাহার হলের মিড ভবনে ফাটল দেখা দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে বাইরে এসে আশ্রয় নেন। এ ছাড়া আতঙ্কে একাধিক হলের বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ শিক্ষার্থী।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে অর্থনীতি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল তানবীর, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানজির হোসেন, কবি জসীমউদ্দীন হলের তানভীর বারী হামিম এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের এক শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের সময় পলেস্তরা খসে পড়ে আতঙ্ক ছড়ায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন, মোকাররম ভবন, কবি জসীমউদ্দীন হলে। স্যার এ এফ রহমান হলের ১০৫ নম্বর কক্ষের আসবাব ভেঙে পড়ে যায়।
এদিকে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে গতকাল বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন মুহসীন হলের শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীদের জন্য করা স্বাধীনতা টাওয়ারে নিজেদের সিট বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তারা ফিরে যান।
মুহসীন হলের প্রভোস্ট ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বুয়েটের প্রতিবেদনে এই হল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। কিন্তু এখনই তা বসবাসের অনুপযোগী এ রকম বলেনি। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দ্বারাই এখন হলের মেরামত ও সংস্কারকাজ চলছে। ভূমিকম্পের মতো দুর্ঘটনায় আফটার শকের একটা বিষয় আছে, সেই জায়গা থেকে নিরাপত্তার প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা সেখানে গেছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবার কথা বলব। হলের ভবনগুলো পরীক্ষা করে শিক্ষার্থীদের জন্য যা ভালো হয়, সেই সিদ্ধান্ত নিব।
ভূমিকম্পের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সদ্য নির্মিত ছয়টি ১০ তলা আবাসিক ভবনে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে। মেঝে, দেয়াল ও বাথরুমের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরা পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা হল ও ভবন নির্মাণে দুর্নীতি এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করেছেন।
ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শেরেবাংলা ফজলুল হক হলে। এতে ওই হলের শিক্ষার্থীদের নির্মাণাধীন কামারুজ্জামান হলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। গতকাল দুপুরে প্রশাসন ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, হল প্রশাসন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি উঠেছে ভগ্নদশা মন্নুজান হলের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকেও সরিয়ে নেওয়ার।
শেরেবাংলা ফজলুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা নতুন হলে স্থানান্তরিত হতে পারবে। তবে কামারুজ্জামান হলে দুজনের কক্ষে তিনজন করে থাকতে হবে। এ ছাড়া হলটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি এবং পানিরও সংকট রয়েছে। এ ছাড়া হলের খাটের কাজ শেষ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ফ্লোরে থাকতে হবে। তাদের কিছুটা কষ্ট হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পে দুই ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের পলেস্তারা খসে পড়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে মাদ্রাসা ভবনের দোতলা থেকে নিচে লাফিয়ে আহত হয়েছে মারুফ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও স্থানীয় প্রতিনিধি)