শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন রাজনৈতিক নেতাদের

বাংলাদেশ ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৫৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন রাজনৈতিক নেতাদের

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলো। তারা বলছে, এই কমিশন দৃঢ়তা দেখাতে না পারায় তাদের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এমন ইসির অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপের তৃতীয় দিনের দুই পর্বের বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য উঠে এসেছে। আগামী নির্বাচনে বড় দলগুলোকে আচরণবিধি মানানোর বিষয়ে ইসির সক্ষমতা নিয়ে সংশয় জানিয়ে তারা বলেন, বড় দলগুলোর কারণে ভোটকেন্দ্র দখল, অনিয়ম ও গোলযোগের শঙ্কা রয়েছে। ইসিকে নির্বাচনী আচরণবিধির কঠোর প্রতিপালন, ব্যতিক্রম হলে এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।

জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ইসির সমালোচনা কম করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সফলভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি আমরা। আমাদের নিয়ত পরিষ্কার। সবার সহযোগিতা পেলে ভালো নির্বাচন সম্ভব হবে।
আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন পরিপন্থি কোনো কাজ করলে ছাড় দেবে না নির্বাচন কমিশন। কঠিনভাবে প্রয়োগ করা হবে আচরণবিধি।

সোমবারের সংলাপের দুই পর্বে ১১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসি। দলগুলো হচ্ছে– বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পাটি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাকের পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)। আমন্ত্রণ পেলেও বাংলাদেশ লেবার পার্টি সংলাপে আসেনি।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নিয়াজের সঞ্চালনায় সংলাপে তিন নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল বুধবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ আরও ১২ দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলো যা বলল
বিকল্পধারা বাংলাদেশের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) আবদুল মান্নান আচরণবিধি প্রতিপালনের প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে জানান, বড় দুই দল আচরণবিধি মানে না। তাদের কীভাবে আচরণবিধি মানাবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য দুই-পাঁচ-দশটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল করলে বাকিরা সোজা হয়ে যাবে। সেটা পারলে বিশ্বাস করব নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক লিখিত প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, এবার সংসদীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটের উত্তর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভোটার যেন বেশি সময় না নেয়, তা বিবেচনায় নিতে হবে। গণভোটের কারণে ভোটার উপস্থিতিও বাড়তে পারে। এ জন্য ভোটকেন্দ্র ও বুথ সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়াতে হবে।

ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান বলেন, বড় আফসোস, সুষ্ঠু নির্বাচন স্বাধীনতার পর দেখিনি। ভোটের প্রতি জনগণের অনাস্থা ও বিমুখতা রয়েছে। ইসি যদি মনে করে ভালো নির্বাচন করবে, তাহলে সম্ভব।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আচরণবিধিতে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে উল্লেখ করেন। এআই অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা যত সহজে লেখা হচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার অনেক পার্থক্য।

জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও নিজ প্রতীকে ভোট করার বিধান করে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। জামানতের অর্থ কমানো, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারণা বন্ধ ও মনিটরিং টিম গঠনের দাবি জানান তিনি।

জাকের পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব ও পেশিশক্তির দৌরাত্ম্য বন্ধ করার দাবি জানিয়ে বলেন, সত্যিকার অর্থে বিতর্কমুক্ত নিশ্চিত করতে যে কোনো মূল্যে কালো টাকার প্রভাব বন্ধ করতে হবে। তা না পারলে তামাশার নির্বাচন হবে।
ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব আব্দুস সামাদ বলেন, বিশেষ একটি দলের (এনসিপি) প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে ইসি নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখতে পারেনি। এতে ইসির স্বাধীনতা ও দৃঢ়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ইসি স্বাধীন না হলে নির্বাচন জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সব ক্ষেত্রে ইসির ভূমিকা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে হবে।

খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসীর আলী বলেন, তপশিল ঘোষণার দিন থেকে যৌথ বাহিনীকে মাঠে রাখতে হবে। নির্বাচনের তিন দিন আগে সেনা মোতায়েন ও ইউনিয়নে একটি করে ক্যাম্প রাখলে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে।
মুসলিম লীগের (বিএমএল) সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে, অবৈধ ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ভোটের প্রচারে পোস্টার ও ব্যানারের ব্যবস্থা বিলীন করা সঠিক হবে না। পোস্টার ছাড়া জনগণের কাছে প্রার্থীর পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম।

সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা যা বললেন
সংলাপের সূচনা ও সমাপনী বক্তব্যে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন আচরণবিধি প্রতিপালনে দলগুলোর সহায়তা চেয়ে বলেন, আচরণবিধির বাস্তবভিত্তিক প্রয়োগে নির্বাচন কমিশন কঠোর হবে।

তিনি বলেন, যত ঝঞ্ঝা, যত সাইক্লোন, ঝড় আসুক না কেন, আমরা এটা মোকাবিলা করে একটা সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমাদের পক্ষ থেকে নেব।

নির্বাচন কমিশনার তহমিদা আহ্‌মদ রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, সবাই তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। গোটা জাতি একাট্টা হয়ে চাচ্ছে নির্বাচন সুন্দর হোক। আমরা ভালো নির্বাচন করতে পারব ইনশাহআল্লাহ। এই কাজে আপনারা সহযোগিতা করলে আলহামদুল্লিাহ! আর অসহযোগিতা করলে ইন্নালিল্লাহ।
আরেক কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম হলে রিটার্নিং অফিসার পুরো আসনের ভোট গ্রহণ বাতিল করতে পারবেন। অনিয়ম হলে কেন্দ্র বাতিল করবেন প্রিসাইডিং অফিসার। আচরণবিধি কঠিনভাবে প্রয়োগ করা হবে, আচরণবিধি পরিপন্থি কাজে ইসি কম্প্রমাইজ করবে না।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম