জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৪৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, তাদের রক্তদান যেন চিরস্মরণীয় হয়– এমনই আকুতি জানিয়েছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শনিবার দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই শহীদ স্মরণে নানা ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর–
২৪ যোদ্ধার স্মরণে ২৪টি বৃক্ষ
অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ২৬ জনের বাড়ি পটুয়াখালীতে। এর মধ্যে ২৪ জন অভ্যুত্থানের সময় মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্প্রতি মারা গেছেন আরও দু’জন। প্রশাসনের তালিকায় এখন পর্যন্ত সংযুক্ত ২৪ জনের স্মরণে শনিবার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের মাঠে এই কর্মসূচি পালন করে জেলা প্রশাসন। সেখানে সন্তানের আত্মদানের কথা তুলে ধরেন শহীদ সাংবাদিক মেহেদী হাসানের বাবা মো. মোশাররফ হোসেন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘আজ আমার সন্তান নেই। আমার সন্তানও আপনাদের মতো এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে সংবাদ পরিবেশন করত। আমার হার্টে সমস্যা, আমাকে চিকিৎসা করাবে সেই আশাও দিয়েছিল। বলেছিল– একটু ধৈর্য ধরো, এ অভাব থাকবে না বাবা। ফ্যাসিস্ট হাসিনা তাঁর পুলিশ বাহিনী দিয়ে গুলি চালিয়ে আমার বুকের ধন কেড়ে নিয়ে গেছে।’
শহীদ জসিম হাওলাদারের স্ত্রী মোসা. রুমা বেগম বলেন, ‘১৭ বছর ধরে মানুষ কথা বলতে পারত না। এখন আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। আর এটা সম্ভব হয়েছে আমার স্বামীসহ জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধাদের জন্য।’ তাদের রক্তদান যেন বৃথা না হয়, সেই আকুতির পাশাপাশি হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান তিনি।
সেখানে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়াসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চিত্রাঙ্কন ও গ্রাফিতি অঙ্কন
পিরোজপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ‘২৪-এর রঙে’ শিরোনামে চিত্রাঙ্কন ও গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবিতে উঠে আসে গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়বিচারের চিত্র। শনিবার জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত কর্মসূচিতে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। তারা স্টেডিয়াম গ্যালারির দেয়ালে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলেন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্যপট।
শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা সদরের রাণী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুরু করে গ্রাফিতি অঙ্কন। শনিবার বিকেলে দেখা গেছে, একদল শিক্ষার্থী দেয়ালে রং-তুলির আঁচড়ে নানা দৃশ্য ফুটিয়ে তুলছে। বিদ্যালয়ের খরচে অঙ্কনে অংশ নেয় সপ্তম শ্রেণির উহ্লামং মারমা, রিজওয়ানা করিম রিচি, নবম শ্রেণির সাফায়াত শাফিন, সাদিকুন নাহার পাপিয়া, চিহ্লাঅং মারমা এবং দশম শ্রেণির তানজিলা ইসলাম তানহা, রত্না চাকমা, উইনু মারমা, সুইক্রা মারমা শ্যামলী ও তাথৈ পাল।
তাদের হাতে মূর্ত হয়ে ওঠে শহীদের রক্তাক্ত দেহ রিকশায় নিয়ে যাওয়া, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য কাজ করার চিত্র। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সরকারি নির্দেশনার আলোকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।