নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০১ জুন ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৫৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্যাপক আয়োজনে জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালিত হলো ৩০ মে। বিএনপি, যুবদল, জাসাস ছাড়াও উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশীদের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র উদ্যোগে বড় ধরনের একটি দোয়া-মাহফিল এবং তবারক বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি এবং ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র পৃথক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারিগণের মধ্যে তবারকের পাশাপাশি ‘জায়নামাজ’ও বিতরণ করা হয়েছে। দোয়া-মাহফিলে বক্তারা ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দাবি করেন। সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয় ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি’র উদ্যোগে। হাজারো প্রবাসী এতে অংশ নেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ এই কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘একাত্তরের মার্চে স্বাধীনতার জন্যে উদগ্রিব মানুষকে সুনির্দিষ্ট কোন দিক-নির্দেশনা না দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তেমন একটি পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে নিজ উদ্যোগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি কারো নির্দেশে খবর পাঠ করেননি। তিনি সংবাদ পাঠক ছিলেন না। যখোন পশ্চিমা বাহিনী রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশের মানুষের ওপর অতর্কিতে হামলা করেছে, যখোন শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিয়ে স্বেচ্ছায় পাক হানাদার বাহিনীর কাছে ধরা দিয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি শুধু ঘোষণাই দেননি, তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন, যুদ্ধ করেছেন। গিয়াস আহমেদ বলেন, শুধু তাই নয়, পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের আগে শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রেও গলাটিপে বাকশাল কায়েম করলেন। বাকশাল ছিল একাত্তরের চেতনার পরিপন্থি। বাকশাল ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি। বাকশাল ছিল একদলীয় শাসন ব্যবস্থা। বাংলাদেশের মানুষ এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার জন্যে যুদ্ধ করেনি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংকটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সমস্ত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই সেই জিয়াউর রহমান যিনি বাকশাল গঠনের সময় শেখ মুজিব কর্তৃক বিলুপ্ত আওয়ামী লীগকে তিনি আবার পুনরুজ্জীবনের লাইসেন্স দিয়েছিলেন। গিয়াস আহমেদ উল্লেখ করেন, এভাবেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, স্বাধীনতার ঘোষক, এবং আধুনিক বাংলাদেশ রচনার সত্যিকারের রূপকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। এমন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়কের ৪৪তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে সুদূর এই প্রবাসেও বাংলাদেশীরা দোয়া-মোনাজাত এবং আলোচনা সভার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।



‘গেস্ট অব অনর’ হিসেবে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অপর প্রভাবশালী সদস্য জিল্লুর রহমান ৩০ মে-কে ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান । লন্ডন থেকে টেলিফোনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির উত্তর আমেরিকা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক’বছর আগেই সময়ের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে ৩১ দফা কর্মসূচি জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। সেখানেই রয়েছে একটি দেশ কীভাবে আগামিতে পরিচালিত হবে তার সুনির্দিষ্ট সংস্কারের রূপরেখা। দেশের তরুণ প্রজন্ম যদি নিজেদের দায়িত্ব ও আত্মপরিচয়ের জায়গা থেকে রাজনীতিকে ধারণ করে সেই ক্ষেত্রে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আদর্শ এবং দর্শণ হিসেবে তা বিবেচিত হবে। তাই আসুন, আজকের দিনে আমরা সবাই শপথ করি আমরা কোন ত্যাগে ভয় করি না, আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো। শহীদ জিয়ার আদর্শই হবে আমাদের আগামি দিনের পথ-পরিক্রমার দিশারি।

এ মাহফিল ও আলোচনা সমাবেশের সভাপতি মো. অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান সমাপনী বক্তব্যে সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের সত্যিকারের দেশপ্রেমিক নেতা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপার্সনের শাহাদৎ বার্ষিকীর এ আয়োজনকে সাফল্যমন্ডিত করার মধ্যদিয়ে মূলত: প্রবাসীরাও ফ্যাসিস্ট সরকারের অপশাসনের প্রতি এখনো যে সকলে প্রতিবাদমুখর তারই জানান দিলেন। সংগঠনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিমউদ্দিন ভিপি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা তথা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। এখনো সে দাবি আদায় হয়নি। গণমানুষের এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে সরব থাকতে হবে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান সাঈদের সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্তরাষ্ট বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, কোষাধ্যক্ষ জসীম ভ’ইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ আহমেদ এবং এম এ বাতিন, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জনি। এই আয়োজনের জন্যে গঠিত কমিটির আহবায়ক দেওয়ান কাউসারের সার্বিক সমন্বয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনা করে আরো বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব মো আশরাফ হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব এম এ কাইয়ুুম, প্রধান সমন্বয়ককারী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, সমন্বয়কারী হুমায়ুন কবীর, রানা চৌধুরী, নুর আমিন, দেলোয়ার হোসেন, আবুল খায়ের, মাসুদুল আলম, মজিবর রহমান স্বপন, মনসুর আলম, স্টেট বিএনপির নেতা কাজী আসাদউল্লাহ, আনিসুর রহমান, রাহিমুল ইসলাম প্রিন্স, শাহাবুদ্দিনশাহীন, কাউসার আলম, তানভীর করিম, শাকিলা মাহবুব। নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক মহিলা সম্পাদিকা সৈয়দা মাহবুদা শিরিন, জিনাত রেহেনা রিনা, খন্দকার সাবু, বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস জিয়াউর রহমান জিয়া, সাবেক ছাত্র নেতা মার্শাল মোরাদ, নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিনের সাধারন সম্পাদক বদিউল আলম ও সাংগঠিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন মৃধা, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি পরিষদের সভাপতি শাহাদত হোসেন রাজু, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সদস্য-সচিব জাহাংগীর সোহরাওয়ার্দী, বাফেলো বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজদৌলা বাবুল, সোহেল হাওলাদার প্রমুখ।
কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বদরুল হক আজাদ, তাজুল ইসলাম, শাহীন আবদুল্লাহ, খাদেমুল ইসলাম রুবেল, শেখ হাসান, ফাহাদ ইসলাম বাঁধন, মাইনুল করিম টিপু, আনোয়ার হোসেন, নীরা রাব্বানী, এ আর মাহবুব,ু হাফিজুর রহমান পিন্টু, আলমগীর খান ভিপি, স্টেট বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রইচ উদ্দিন।
অপরদিকে, ‘তোমার কীর্তির চেয়ে তুমি মহান’ শিরোনামে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিলে অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জিল্লুর রহমান, ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী, যুবদলের নেতা জাকির এইচ চৌধুরী এবং আবু সাঈদ আহমেদ প্রমুখ। হোস্ট সংগঠনের সভাপতি শাকিল মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলম নমীর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এ আয়োজনের আহবায়ক দেওয়ান মনির, সদস্য-সচিব আমানত হোসেন আমান, যুগ্ম সদস্য-সচিব মনিরুল ইসলাম মনির, প্রধান সমন্বয়কারি সারওয়ার খান বাবু, অন্যতম সমন্বয়কারি রফিকুল ইসলাম ডালিম দলমত-নির্বিশেষে সকল প্রবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শনের এ আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্যে।