শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বদলেছে ১৭ ভাগ কৃষকের চাষাবাদের ধরন

জাতীয় ডেস্ক   |   বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৪৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বদলেছে ১৭ ভাগ কৃষকের চাষাবাদের ধরন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চর, হাওর, পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকায় ১৭ দশমিক ১ ভাগ কৃষকের চাষাবাদের ধরন বদলে গেছে বলে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) এক জরিপে উঠে এসেছে।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ভার্চুয়ালি আয়োজিত গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। জরিপে ৩৫৩ জন পুরুষ ও ৬৫৭ জন নারী ও ১২ জন হিজড়া অংশ নেন।

জরিপে কৃষির সঙ্গে জড়িত ১৭ দশমিক ১ ভাগ অংশগ্রহণকারী জানান, কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রভাব পড়েছে। প্রভাব মোকাবিলায় তারা চাষাবাদের ধরন বদলে ফেলেছেন।

যেমন, উচ্চ ফলনশীল জাতের চারা/বীজ ব্যবহার করছেন, ফসল কাটার সময় বদলে ফেলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বীজ সংরক্ষণ করছেন, জমিতে দিচ্ছেন কেঁচো সার ও জৈব সার।

এই জরিপে আরও উঠে এসেছে অংশগ্রহণকারীদের ৩০ দশমিক ৭২ ভাগ (২২৭ জন নারী, ৮৩ জন পুরুষ ও ৫ জন হিজড়া) গত এক বছরে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার (শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন) শিকার হয়েছেন কিন্তু অভিযোগ জমা দিয়েছেন ১৫ দশমিক ৬ ভাগ। চর এলাকায় অভিযোগ করার হার সর্বোচ্চ এবং পাহাড়ি এলাকায় সহিংসতার শিকার হলেও কেউ অভিযোগ জমা দেয়নি।

সুইডেন দূতাবাসের সহায়তায় এমজেএফ চার বছরব্যাপী (সেপ্টেম্বর, ২০২২ – আগস্ট, ২০২৬) ‘কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (ক্রিয়া)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পটির আওতায় ১৪টি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ১৪ উপজেলার ২৮টি উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদা‍য়গুলোর বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং বিশেষ করে নারী ও মেয়েশিশুদের যেকোনো প্রয়োজনে সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে সাড়া দেয় তা মূল্যায়নের জন্য অ্যাসোসিয়েটস ফর ইনোভেটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এআইআরডি) লিমিটেডের সহযোগিতায় এই বেসলাইন জরিপ পরিচালিত হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৫ দশমিক ৭ ভাগ বিবাহিত। তাদের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স ২৬ ও নারীদের ১৬। গুণগত বিশ্লেষণ থেকে উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দারিদ্র্য ও সামাজিক রীতিনীতি মেয়েদের কম বয়সে বিয়ের মূল কারণ।

ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লুবনা ইয়াসমীন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন একটা বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ধরনের প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমাদের মন্ত্রণালয় দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যেমন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি), মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান। জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে আমরা আমাদের পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিজ্ঞা করেছি।

তিনি বলেন, ‘তবে এগুলো খুবই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। এগুলো বাস্তবায়নে আমাদের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। যেমন, ২৭ বছর মেয়াদি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে আমাদের লাগবে ২৩০ মিলিয়ন ডলার, মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যানে লাগবে ৮০ মিলিয়ন ডলার, এনডিসিতে লাগবে ১২৭ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর প্রয়োজন ১১ মিলিয়ন ডলার। এর জন্য আমাদের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাহায্য নিতে হচ্ছে এবং তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে খুবই আগ্রহী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের উন্নয়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে যা অন্যদের আগ্রহী করে তুলছে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে।’

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম