ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট | ২৩১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বিদেশি কূটনীতিকরা আহাম্মকের মতো বিবৃতি দিয়েছেন মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের অনেকের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের কথা বলা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এটা একটা কালচার তৈরি হয়েছে। এটা বন্ধ করা উচিত। এখন সময় এসেছে এটা বন্ধ করার। গতকাল বিকালে রাজধানীর রমনাস্থ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘দেশ এগিয়ে চলছে’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় যৌথ বিবৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৩ দূতাবাস। সেই বিবৃতির জেরে বুধবার ঢাকাস্থ পশ্চিমা ১৩ রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সরকারের অসন্তোষের কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, কানাডা, ডেনমার্ক, সুইডেন ও ইইউ দূতদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের বলেন, একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিক রীতিনীতি ভঙ্গ করে ঢাকার যেসব দূতাবাস গণমাধ্যমে যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল তাদের দূতদের আমরা ডেকেছিলাম। তাদের কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণে আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছি।
আমরা বলেছি, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যা দিয়ে সারাদিনের শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনকে মূল্যায়ন করা ঠিক হয়নি। একই বিষয়ে গতকাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, প্রধানমন্ত্রী রোম সফর করে ঢাকায় ফিরেছেন। হিরো আলমকে নিয়ে বিবৃতি দেয়া দেশগুলোর মধ্যে ইতালিও ছিল। দেশটির সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রীপর্যায়ে এ বিষয়ে কোনো অসন্তোষ জানানো হয়েছে কিনা? জবাব দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের ওপর ক্ষেপে যান। বলেন, আমরা এটা নিয়ে কিছু বলিনি। এটা ভদ্রতার জায়গা। আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) ময়লাগুলো নিয়ে আলাপ করেন। আমরা এটা নিয়ে আলাপ করি না। আর আপনারা সবসময় ময়লা খোঁজেন। আপনাদের (গণমাধ্যমকর্মী) অভ্যাসটা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু শুধু কি সাংবাদিকরা এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, এখানে কি রাজনীতিবিদদের কোনো দায় নেই? সম্পূরক এমন প্রশ্নে মন্ত্রী ফের পাস কাটিয়ে বলেন, অনেক দিন ধরে এটি তৈরি করেছেন (আপনারা)। আমরা কালচারটা পছন্দ করছি না।
অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের বক্তব্য বা হস্তক্ষেপ বন্ধে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রোম সফরে ইউরোপে নিযুক্ত বাংলাদেশি দূতদের নিয়ে সম্মেলন করার কথা তুলে ধরেন। বলেন, আমাদের দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে একটা বৈঠক করেছি। সেখানে আমরা বলেছি, আমাদের দেশ সম্পর্কে অনেক দেশের জ্ঞান সীমিত। মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নির্বাচন প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশন এসব নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ১০টি বিশেষ ব্রিফ তৈরি করেছে। আমরা বলেছি, আপনারা এটা বেশি বেশি করে শেয়ার করেন। এমনকি আগুন-সন্ত্রাসী নিয়েও বই তৈরি করেছি আমরা। আমরা বলেছি, আপনারা (বাংলাদেশি দূত) ওদের (বিদেশি) সঙ্গে শেয়ার করবেন, জানান দেবেন। এগুলো নিয়ে জানাবেন। তাতে তারা আহম্মকের মতো হঠাৎ করে বিবৃতি দেবে না। কেউ একজন তাকে (বাংলাদেশি নাগরিক) ধরলো আর সে না জেনে কথা বলে দিলো। ড. মোমেন বলেন, কখনো কখনো তার তহবিলে পয়সা দিলো, আর তারা বলে ফেললো। এ জন্য আপনাদের (বাংলাদেশি দূত) এটা বড় দায়িত্ব। আপনারা তাদের সঙ্গে (বিদেশি) সাক্ষাৎ করে বড় বড় ইস্যু সম্পর্কে জানান দেবেন। এ ব্যাপারে তাদের জ্ঞান বাড়বে। (সুত্র-মানব জমিন)