নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০১ জুলাই ২০২৩ | প্রিন্ট | ১৮৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল আগামী মাসে ঢাকা সফরে যাচ্ছে। এই প্রতিনিধি দলে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু’র নামও রয়েছে। বাংলাদেশে এ বছরই ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ডের এটি দ্বিতীয় সফর। গত ১৯-২৩ মার্চ তিনি বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিন এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। অবশ্য এ সফরটি ছিল ইউক্রেন প্রশ্নে বাংলাদেশের সর্মথন সংক্রান্ত। আর এবারের এজেন্ডা বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের তাগিদ। আর মধ্য জানুয়ারিতে ঢাকা সফর করেছেন ডোনাল্ড লু।
বাংলাদেশ সফরকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করবেন। উভয় দলের সাথে আলোচনায় খালেদার মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকার ও অবাধ অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের বিভিন্ন বাধাগুলো স্থান পেতে পারে। এদিকে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বিএনপি মহাসচিব ফকরুল ইসলাম আলমগীর গত শনিবার বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছেন। তাদের আলোচনায় আসন্ন মার্কিন প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর ও দলের নির্বাচনী অবস্থান ইস্যুটি স্থান পায়।
এ বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এমন উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে অক্টোবর নাগাদই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। কিন্তু দেশে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রয়েছে নির্বাচন প্রশ্নে নানাবিধ অমিমাংশিত ইস্যু। এরমধ্যে নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যু, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক পুর্নগঠন অন্যতম। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধাদানকারীদের যুক্তরাষ্ট্র আগাম ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ফলে দু দেশের মধ্যে শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনছেন। এ বিষয়গুলো নিয়েও তারা খোলামেলা কথা বলতে চান। স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে যেকোন ধরনের সহযোগিতা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তবে সিদ্ধান্তটি নিতে হবে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও জনগনকে। আমরা সরাসরি কোন হ্সতক্ষেপ করতে পারি না। আমরা বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে গনত›ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নে ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারি মাত্র।