মোহাম্মদ ইসলাম, ফিলাডেলফিয়া | সোমবার, ২৬ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | ২৩০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বিএডিভির বৈশাখী আনন্দ উৎসব ১৪৩২: এক অনন্য সাংস্কৃতিক উৎসবের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ডেলাওয়ার ভ্যালি (BADV)-এর উদ্যোগে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো বৈশাখী আনন্দ উৎসব। উৎসবের সূচনা হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে, যেখানে ছোট্ট অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তির প্রকাশ ঘটায়। এরপর, BADV-এর প্রাক্তন সভাপতিবৃন্দ ও উপস্থিত গুণিজনদের সঙ্গে নিয়ে বর্তমান সভাপতি ফারহানা আফরোজ পাপিয়া ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহিদা আফরোজ স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে ছিল উদ্বোধনী সংগীত, শিশু ও কিশোরদের নৃত্য পরিবেশনা, পুরস্কার বিতরণী, নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, এবং প্রাপ্তবয়স্কদের পরিবেশনা। বিশেষ আকর্ষণ ছিল “আমার জেলা সবার সেরা” শিরোনামের অঞ্চলভিত্তিক উপস্থাপনা, যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্য, পোশাক ও সংস্কৃতির বিচিত্র রূপ ফুটে ওঠে। এই পর্বটি উপস্থাপনায় ছিলেন সহ-সভাপতি সোয়েব আহমেদ। উৎসবের এক বিশেষ মুহূর্তে, ফিলাডেলফিয়া সিটি কাউন্সিল উইমেন ড. নিনা আহমেদ শহরের মেয়রের পক্ষ থেকে একটি Proclamation পাঠ করে তা হস্তান্তর করেন BADV-এর সভাপতি ফারহানা আফরোজ পাপিয়ার কাছে। একইভাবে, পেনসিলভানিয়া গভর্নরের সেক্রেটারি অব পলিসি প্ল্যানিং আকবর হোসেন গভর্নরের পক্ষ থেকেও আরেকটি Proclamation পাঠ করেন। তাদের সম্মানার্থে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন সভাপতি ফারহানা আফরোজ পাপিয়া। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী শাহ মাহবুব এবং ক্লোজ-আপ তারকা শশী, যাঁদের পরিবেশনায় মঞ্চে জমে ওঠে এক প্রাণবন্ত আবহ। ছিল ইন্টার্যাকটিভ গেমস, প্রাপ্তবয়স্কদের অংশগ্রহণে প্রাণচঞ্চল পরিবেশনা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন মুনমুন কুরেশী, সাদিয়া নিশাত আহমেদ এবং রাজিয়া সুলতানা তানিয়ার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত চুড়ি, আলতা ও টিপ-এর স্টলটি ছিল নারীদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বক্তব্য রাখেন BADV-এর সহ-সভাপতি সোয়েব আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ সিদ্দিকী। পরিশেষে, উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি বড় গ্রুপ ছবির মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ডেলাওয়ার ভ্যালি (BADV) প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের মাঝে বাঙালি সংস্কৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর এবং এই উৎসব তারই সফল বহিঃপ্রকাশ।