নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৬ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | ১৯৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজপথে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। বিএনপি—এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিচ্ছে। উভয় দল তিনজন করে উপদেষ্টার অপসারণ চাইছে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার—উজ—জামান ডিসেম্বরের মধ্যে নিবার্চন চাইছেন। অন্তর্বর্তি সরকারের অনেক বিষয়ে সেনাবাহিনী ভিন্নমত পোষন করে। সরকারের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে করিডর দেবার পরিকল্পায়ও সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। যমুনা ও সেনাসদরের মুখোমুখি অবস্থান টালমাটাল এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত বেসামাল পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উপদেষ্টাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা জানতে চান, রাজপথে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের কোনও করনীয় কিছু আছে কিনা। যদি করনীয় কিছু থাকে সেটা যেন তাকে জানায়। করনীয় না থাকলেও সেটাও যেন জানায়। এক পর্যায়ে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিলে সবাই তাকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানায়। প্রশ্ন উঠেছে, ড.ইউনূস কি ১৮ কোটি মানুষের নেতা হবেন? নাকি এনসিপির নেতা হবেন? সিদ্ধান্তটা তাকেই নিতে হবে। ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের প্রতি ইউনূসের একটা দুর্বলতা রয়েছে। তা এনসিপি নেতারাও জানেন। এই দুর্বলতাকে ট্রার্মকার্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা। প্রধান উপদেষ্টার সাথে তারা সাক্ষাতে যেসব প্রস্তাবনা দিয়েছেন তা রাজনৈতিক অঙ্গনে গ্রহনযোগ্য নয়। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি তা কোনদিনই মানবে না। আর এনসিপির এই প্রস্তাবের অন্তরালে রয়েছে ভিন্ন খেলা। তা হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ দির্ঘায়িত করা। আর এটা নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলেও ক্ষতি নেই। এই সুযোগে ক্ষমতার আরও দীর্ঘায়িত হবে।
সরকারের ভেতরে এনসিপি ছাড়াও একটি সুবিধাভোগী গ্রুপ আছে। তারা বর্তমানে খুবই শক্তিশালী। কিন্তু ইউনূস না থাকলে তারা হিরো থেকে জিরো। এই বেনিফিসিয়ারি গ্রুপটি যেনতেনভাবে ক্ষমতাকে লম্বায়িত করায় তৎপর। নির্বাচনের কথা শুনলেই তাদেও গায়ে জ্বর চলে আসে। সংস্কার সংস্কার বলে জিকির তোলে।
ইউনূস সরকারে আরেকটি বেনিফিসিয়ারী গ্রুপ রয়েছে। তারা এক সময় বিএনপি ঘরণার বুদ্ধিজীবি কিংবা শুভাকাংখি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তারা বিএনপির চেয়ে বেশি পরিমানে জামায়াতপন্তী। জামায়াতের সাথে তাদের এক ধরনের সখ্যতা গড়ে উঠেছে। তাদের কথাবার্তা জামায়াত ও এনসিপির আলোকেই প্রতিফলিত হয়। কার্যত সরকারে বিএনপিপন্থী বলে কিছু নেই। তারা এখন বেনিফিসিয়ারী পন্থী। কারন, সরকারে না থাকলেতো তাদের রাস্তায় রাস্তায় ফ্যাল ফ্যাল করে ঘুরতে হবে।
কি হচ্ছে? কেন হচ্ছে। দেশ কোন পথে যাচ্ছে। ইউনূস কি পদত্যাগ করছেন? তখন কি হবে? বিকল্প কোথায়? কে সামাল দেবেন? জামায়াতের রহস্যজনক আচরন। এনসিপিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার। রাজপথে বিএনপি। ইশরাকের রাজনৈতিক উত্থান ও রাজপথ দখল। পতিত আওয়ামী সরকারের দোসরদের সাবোটাজ পরিকল্পনা। সেনাপ্রধানের আলিটমেটাম। ইউনূস ও ওয়াকারুজ্জামানের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল। নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে বিতর্ক। এমনি এক শংকা ও উদ্বেগের মধ্যে দেশ। উদ্বিগ্ন সাধারন মানুষ। রাজনৈতিক দোষারোপের সংস্কতি ছেয়ে গেছে। কেউ কারো প্রতি সন্মান নিয়ে কথা বলছেন না। সেনাপ্রধান অন্তর্বর্তিকালীন সরকার প্রধানের কতৃর্ত্বকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইউনূস মর্মাহত। ক্ষুব্ধ। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি চারিদিকে। প্রেসিডেন্ট চুপ্পু কোথায়? দেশে কোন রাষ্ট্র প্রধান আছেন। কেন তিনি হাইবারনেশনে? এমনি নানা প্রশ্ন সাধারন মানুষের। এই ক্রান্তিকালের মাঝিমাল্লাা কে?
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এক বক্তৃতায় বাংলাদেশের রাজনীতির দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। অনিশ্চিত এক পরিস্থিতির মধ্যে তার দিক—নির্দেশনামূলক বক্তৃতা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সহায়ক হবে। অন্তর্বর্তি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ পর্যন্ত সংকট উত্তরণের সুস্পষ্ট কোনও রোডম্যাপ দেননি। তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নিবার্চন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি আল—জাজিরায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেছেন, জনগণ নিবার্চন চাইছেন না। এসব কারণে একটা অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ওয়াকার। তার বক্তৃতায় জনআকাঙ্খার প্রতিফলন লক্ষ্যনীয়। সেনাবাহিনীর দরবারে তিনি এই বক্তৃতা দিয়েছেন। সেনাপ্রধানের বক্তৃতায় চারটি উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট রয়েছে। এই চার পয়েন্ট হলো : ১. কাউকে করিডর দেওয়া যাবে না। এটা পুরোপুরি অগ্রহনযোগ্য। ২. ডিসেম্বরের মধ্যেই নিবার্চন হতে হবে। নিবার্চিত সরকারই জাতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কোনও অনিবার্চিত সরকার না। ৩. স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জাতীয় গৌরব কোনওভাবেই নেগোশিয়েটেবল না। ৪. মবসন্ত্রাস সেনাবাহিনী মেনে নেবে না। সেনাপ্রধান এই চারটি বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন উল্লেখযোগ্য।