নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট | ১৭৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
*সিটির ৪০ শতাংশ ছেলেমেয়ে সোশাল মিডিয়ায় আসক্ত
*১৪ বছরের নিচের ছেলেমেয়েদের রেস্ট্রিকশন
* ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ৭০ ভাগ বেশি অনলাইনে থাকে
নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক এডামস ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবসহ ৫টি সোশাল মিডিয়া প্লাটফরমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন। অন্য দুটি প্লাাটফরম হচ্ছে স্ন্যাপচ্যাট ও ইন্সটাগ্রাম। এই মামলায় মেয়রের সাথে স্বাক্ষর করেছেন নিউইয়র্ক সিটি করপোরেশন কাউন্সেল সিলভিয়া ও.হিন্ডস, ডিপার্টমেন্ট অব মেন্টাল হেলথ এন্ড মেন্টাল হাইজিন কমিশনার ড. অসিন ভাসান, হেলথ এন্ড হসপিটাল করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ড. মিশেল কাটজ ও ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের চ্যান্সেলর ডেভিড সি. ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মেয়রের অফিস থেকে এ মামলা দায়েরের ঘোষণা দেয়া হয়। ক্যালিফোরনিয়ার সুপিরিয়র কোর্টে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানীগলো ইচ্ছাকৃতভাবে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের আকৃষ্ট করার জন্য প্লাটফরমের ডিজাইন করে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনেক বিষয়াদি ম্যানিমুলেট করে তাদের আসক্ত করে ফেলে। সিটির পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, সোশাল মিডিয়ার প্লাটফরমগুলোর নেতিবাচক প্রভাবের কারনে নিউইয়র্ক সিটির শতকরা ৩৮ ভাগ শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যা ও হতাশায় ভুগছে। তারা পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষা ও দৈনন্দিন কার্যকমে। যার বড় অংশ ব্ল্যাক ও ল্যাটিনো কমিউনিটির। এই জরিপে দেখা যায়, ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ৭০ ভাগ বেশি আসক্তিগ্রস্থ সোশাল মিডিয়ার উপর। এদিকে ডিওএইচএমএইচ কমিশনার ড. অসিন ভাসান ছেলেমেয়েদের বয়স ১৪ না হওয়া পর্যন্ত সোশাল মিডিয়া ব্যবহারে রেস্ট্রিকশন আরোপের প্রস্তাব করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সোশাল প্লাটফরমগুলো দেশব্যাপী যুব সম্প্রদায়ের মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের জন্য দায়ি। তারা লাখ লাখ ছেলেমেয়ের মানসিক রোগের অনুঘটকের কাজ করছে।এভাবে অবাধ সোশাল মিডিয়ার দায়িত্বহীন আচরনে যুব সম্প্রদায় ধ্বংসের পথে এগুচ্ছে। পরবর্তী জেনারেশনের চিন্তা করে সিটি প্লাটফরমগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য মামলার পথ বেছে নিল। মেয়র অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক সিটি সারাদেশের শতশত স্কুল থেকে মামলা করার উদ্যোগের সাথেও সংহতি প্রকাশ করছে। টেক জায়ান্ট প্লাটফরমের বিহেভিয়ারে পরিবর্তন আনতে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। নিউইয়র্ক সিটি প্রতিবছর ১০০ মিলিয়ন ডলারের উপর অর্থ ব্যয় করে ইয়থ মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রামে। এ জন্য টেক জায়ান্টরা পরোক্ষভাবে দায়ি।
মেয়র এরিক এডামস বলেছেন, অনলাইনে ক্ষতিকারক কনটেন্ট বিরতিহীনভাবে স্ট্রিমিং যুব সম্প্রদায়কে ধ্বংস করছে। যা কিনা টোবাকো ও ফায়ার আর্মসের অপব্যবহারের সমতুল্য। এটি একটি ভয়ংকর নেশায় পরিনত হয়েছে। আমরা সিটির মিলিয়ন মিলিয়ন জনগোষ্ঠীর পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহন করছি। তাদেরকে পাবলিক হেলথ হ্যাজার্ড সৃষ্টির জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এই মামলা আমাদের যুবসম্প্রদায়কে রক্ষার জন্যই।
নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব মেন্টাল হেলথ এন্ড মেন্টাল হাইজিন (ডিওএইচএমএইচ) কমিশনার ড. অসিন ভাসান বলেছেন, সোশাল মিডিয়া ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি বিষ। এটি লিড পয়জন, বায়ু দূষন ও নিকোটিনের মতোই শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর। এই বিপদ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে রেগুলেশন তৈরি জরুরী হয়ে পড়েছে।