নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতি বিশেষজ্ঞ স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ বললেন, ৭১ সালেই বাংলাদেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে। কাগজটি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম না পড়েই স্বাক্ষর করে প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দীন আহমদের হাতে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যখন পড়েছিলেন, তখন চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। এটি আমার কথা নয়। মরহুম স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর লেখা বইয়ে এ তথ্য রয়েছে। জ্বনাব চৌধুরী ৭১ সালে দিল্লীতে কুটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বাংলাদেশের অন্যতম রুপকার ও জাসদের আধ্যাত্মিক নেতা সিরাজুল আলম খানের ৮৩তম জন্মদিবস পালন উপলক্ষ্যে গত শনিবার ৬ জানুয়ারি পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেস (পিপল আপ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জ্যাকসন হাইটস্থ বাংলা সিডিপ্যাপ ও আলেগ্রা হোম কেয়ারের করপোরেট অফিসে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রবীন সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, বাংলা পত্রিকা ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, প্রথম আলোর সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন,বাংলা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দীন,নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদার, জাসদ নেতা হাজি আনোয়ার হোসেন লিটন, আইনজীবি শেখ আখতারুল ইসলাম, জাগপার রহমত উল্লাহ, রফিক উল্লাহ ও সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান । অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাংবাদিক আদিত্য শাহিন।
![]()
আবু জাফর মাহমুদ বলেন,বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে আটক ছিলেন। তিনি যুদ্ধ দেখেননি। যার সাথে যুদ্ধকালীন সময়ের সম্পর্ক নেই। তখন তিনিই ছিলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা।স্বাধীনতার পর তাকে সাধারন মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযাদ্ধা ও ছাত্রনেতাদের কাছ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। শ্লোগান দেয়া হয়, ‘এক নেতা এক দেশ, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ’। এই শ্লোগানই বাংলাদেশে রাজনীতির পরাজয় এনেছে। যে দেশ জন্ম দিলাম- সেখানে ১ জন নেতা থাকবে,আর কোন নেতা থাকবে না, কাউকে স্বীকার করা হবে না। যারা বিরোধীতা করবে তাদের বিরুদ্ধে রক্ষবাহিনী ও গুন্ডাবাহিনী লেলিয়ে দেয়া হলো। তখন আর বাংলাদেশ থাকে না। ৯ মাসের যুদ্ধে ছাত্র জনতার চেতনার যে পরিবর্তন এসেছিল পাকিস্তানে আটক সে নেতার বুঝবার কথা নয়। সিরাজুল আলম খান স্বাধীনতার পর দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুকে ২৫টি দফা দিয়েছিলেন। তার কর্ণপাত করেন নি।
আবু জাফর মাহমুদ বলেন, সিরাজুল আলম খানের সাথে সাক্ষাতে আমি একটি প্রশ্ন করেছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম, বাংলাদেশ জন্ম হবার আগেই দেশটি বিক্রি হয়ে গেল। আপনিতো জানতেন। তখনতো আপনিও ভারতে ছিলেন। কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি কেন? তিনি জবাবে বলেছিলেন,আরও অনেকেই ফ্যাক্টর ছিলেন। তিনি আর এ বিষয়ে এগুননি।
![]()

জ্বনাব জাফর বলেন, এর প্রমান মেলে নির্বাচনের ২ দিন আগে পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্যে। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভারতের চাপে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন করতে হচ্ছে। তা’হলে রাষ্ট্রটি এখন কার? বুঝতে হবে। নির্বাচনের নমিনেশন দেয় ভারত,সেনা প্রধানের নাম আসে ওখান থেকে, কার কোথায় বদলি হবে তার তালিকা আসে ওপার থেকে। এটা কি আমাদের বাংলাদেশ?
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে জাফর মাহমুদ বলেন,আওয়ামী লীগ প্রাচীন একটি বড় সংগঠন। তার প্রধান দলটিকে ৩ ভাগে ভাগ করে ফেললেন। একজনকে আরেকজনের মুখোমুখি করে দিলেন। নৌকা, ট্রাক ও ঈগলে তাদের তুলে দিলেন। নেতা কর্মিদের লুটতরাজে অভ্যস্থ করলেন। যাদের ব্যবসা নেই, কাজ নেই তাদের বানিয়ে দিলেন মিলিয়নিয়ার। দলটিকে একটি বিকলাঙ্গ দলে পরিনত করতে যাচ্ছেন।
সিরাজুল আলম খান প্রসংগে জাফর মাহমুদ বলেন,সিরাজুল আলম খান মনে করতেন তার জীবনটা জাতির জন্য নিবেদিত। তিনিই ছিলেন আমার চেতনার প্রথম প্রেরণা। আমাদের রাজনৈতিক নেতারা যা বলেন সেটার আলোকে আমরা সব করতে অভ্যস্থ। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে তার বিপরীতে চলি। রাজনৈতিক দল গড়ে নেতারা যে সুবিধা ভোগ করেন, ক্ষমতা ভোগ করেন এসবের কিছুই সিরাজুল আলম খানকে স্পর্শ করেনি। তার ওপর কোন রাজনৈতিক প্রভু ছিল না।





