আদিত্য ইসলাম | সোমবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৪ | প্রিন্ট | ৩৩৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পহেলা জানুয়ারি। ২০২৩। শুভ সকাল। ‘ছি!’ শুরুটাই ‘ছি!’ শব্দটা শোনার মধ্যদিয়ে দিনটা শুরু। লজ্জা আমার। লজ্জা আমাদের। লজ্জা আমার বাংলাদেশের। লজ্জা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের। অপমানে লজ্জিত ভাষানী, একে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বাংলাদেশ। ১ জানুয়ারি ঘুম থেকে উঠার পর প্রথম টেলি কথোপকথন। একজন বঙ্গবন্ধু প্রেমিক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান। বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা।এমন কথাগুলো বলছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই প্রবীন বাংলাদেশি। বলছিলেন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের কারাদন্ডের রায় নিয়ে। তিনি মানতে পারছিলেন না। বছরের শুরতেই ভূল ব্যাটিং? ক্ষোভে বলছিলেন, এতও শংকা, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে এ রায়টির নির্দেশনা না দিলেও পারতেন। লাভ কি হলো? দেশ হিসেবে কোথায় গিয়ে আমরা দাঁড়ালাম। এটা কি ক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে? ছি! বছরের শুরুতেই মহা ভূল। ইউনুসকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে মানতে না পারি। কিন্তু তিনিতো বাংলাদেশেরই মুখ। বঙ্গবন্ধুর ন্যায় তার মুখও বাংলাদেশ।
শ্রম আদালতে ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে ৬ মাসের কারাদন্ডের রায় দেশে বিদেশে মুহুর্তের মধ্যে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দখল করে নিয়েছে আর্ন্তজাতিক মিডিয়া। রাজনৈতিক মামলাগুলোর রায় আসে কোথা থেকে তা সবাই জানেন। গণভবন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ইশারায় ফখরুল, আব্বাস, আমান, স্বপন, সোহেল ও অ্যানীদের বিরুদ্ধে আদালতের রায় হয়। ২ মাসে হাজারো বিএনপি/জামাতের নেতার বিরুদ্ধে রায় আসে। অথচ সাংবাদিক সাগর রুনির হত্যার তদন্ত রিপোর্ট ১০ বছরেও প্রকাশ হয় না। শতবার সময় নেয়া হয়। হায় সেলুকাস বাংলাদেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা। বাংলাদেশের একজন শিশু, সাধারন রাজনীতিক , সাধারন মানুষ কিংবা পাগলও বিশ্বাস করবে না ইউনুসের বিরুদ্ধে মামলার রায় নিরপেক্ষ হয়েছে। ‘এতে সরকার প্রধানের হাত নেই’ এমন বিশ্বাসযোগ্যতায় শুণ্যতার বন্যা বইবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট রায় আসে গনভবন হয়ে আদালতে। এই রায়ে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার আগুনে পুড়লো বাংলাদেশ ও ড. ইউনুস।
এদিকে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদের‘ডামি’ নির্বাচন। ভাগবাটোয়ারা নির্বাচনের ফলাফলও পূর্ব নির্ধারিত। সরকারের কষ্ট হচ্ছে ‘গৃহপালিত বিরোধীদল’ বির্নিমানের। হয়তো তাও ৭ জানুয়ারি নাগাদ পরিষ্কার হয়ে যাবে। দিনের ভোট রাতে, আপনার ভোট দেয়া হয়ে গেছে, আপনার ভোট পেয়ে গেছি- বিনা ভোটে ১৫৩ জন এমপি হবার নজির জাতি অবলোকন করেছ্ েঅতীতে। এখন ঐসব ভোটারদেরই কেন্দ্রে আনার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কথিত অংশগ্রহনমূলক ভোট দেখানের জন্য প্রানপন চেষ্টা। আওয়ামী বনাম আওযামী লীগ, আওয়ামী লীগ বনাম ডামি, আওয়ামী লীগ বনাম গৃহপালিত জাতীয় পার্টি। এমনই ক্যারিক্যাচার চলছে ভোট রঙ্গে। উৎসবের আয়োজন চলছে ভোট তামাশার। ৭ জানুয়ারি আরও একটি লজ্জার দিন হয়ে থাকবে হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাসে। আর অনাকাংখিত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে বাংলাদেশের। প্রস্তুত হতে হবে তামাশার নির্বাচনের আয়োজকদের। ছুটতে হবে বাঘের পিঠ থেকে নামার কিংবা পাকাপোক্ত হয়ে বসার অভিনব কৌশলের দিকে। সেখানে কোন ডামি খেলার সুযোগ নেঈ। আর করলেই কুপোকাত!