শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us
৮ নেতাকে কারন দর্শাও নোটিশ

ডাঃ মাসুদের ভিডিও এবং নিজাম চৌধুরীকে নিয়ে সরগরম আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৩১০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ডাঃ মাসুদের ভিডিও এবং নিজাম চৌধুরীকে নিয়ে সরগরম আওয়ামী লীগ

 

ডাঃ মাসুদের ভিডিও এবং নিজাম চৌধুরীর তৎপরতায় সরগরম যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। পাল্টাপাল্টি বৈঠক ও শো’কজের ঘটনাও ঘটছে। চিঠি পাঠানো হচ্ছে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার ১ মাসের মধ্যেই চর্তুমুখী কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। ৪ দিন আগে সংগঠনের উপদেষ্টা ডাঃ মাসুদুল হাসান হঠাৎ করেই নিজ ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা ছাড়েন। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে বলেন, দলীয় হাই কমান্ড যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এর কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও ২ দিন পরই ভিডিও বার্তাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই ভিডিও প্রকাশের একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুর রহমান দলীয় নেতাকর্মিদের নিয়ে গত সোমবার জ্যাকসন হাইটসের মামা’স রেষ্টুরেন্টে আওয়ামী লীগের ব্যানারে বৈঠক করেন। সেখানে দলের সভাপতি ড.সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা প্রতিবেদককে বলেন, পুরো বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নিজাম চৌধুরীর নেপথ্য নির্দেশনায়। টার্গেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদ। তবে শেখ হাসিনার গুড বুকে তিনি নেই বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নাখোশ। সোমবারের বৈঠক ডেকে ছিলেন ফজলুর রহমান। সেখানে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময়ের কথা ছিল। কিন্তু বৈঠকে বসার পরপরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। হিন্দোল কাদির বাপ্পা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব করেন। নিজাম চৌধুরী তা সর্মথন করেন। ফজলুর রহমানও এই প্রস্তাবে সায় দেন। উল্লেখ্য এই সভায় আওয়মী লীগের প্রায় ১৮ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের একটি অংশ সিদ্দিকুর রহমানের অনুসারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের মধ্যে আব্দুল হাসিব মামুন, মহিউদ্দীন দেওয়ান ও কাজি কয়েস উল্লেখযোগ্য। খবর পেয়ে তৎপর হয়ে উঠেন ড. সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুস সামাদ আজাদ। গত বুধবার এস্টারিয়ার হ্যালো বাংলাদেশ রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক পরিণত হয় বর্ধিত সভায়। সংগঠনের ৮ জন নেতাকে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন ফজলুর রহমান,নিজাম চৌধুরী,আব্দুল হাসিব মামুন,মহিউদ্দীন দেওয়ান,কাজি কয়েস,আশরাফুজ্জামান,হিন্দোল কাদির বাপ্পা ও আতাউল গনি আসাদ। সহসভাপতি সামসুদ্দিন আজাদ ফজলুর রহমানের সভায় উপস্তিত থাকলেও বর্ধিত সভাতেও উপস্থিত ছিলেন। শামসুদ্দিন আজাদ প্রতিবেদককে বলেন, ফজলুর রহমানের আমন্ত্রনে সেখানে গিয়েছিলাম। যাবার পর দেখলাম সিদ্দিক বিরোধী সভার আযোজন করা হয়েছে। যারা গত ৩টি বছর ‘নো মোর সিদ্দিক’ বলে শ্লোগান দিয়েছে তারাই ছিল সভার নেপথ্য নায়ক। কিছুক্ষন থাকার পর চলে এসেছ্।ি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সাথে দেড় যুগ ধরে রাজনীতি করি। তার বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত হলে সেখানে থাকতে পারি না। আশরাফুজ্জামান আজকালকে বলেন, কমিটি গঠনের বা কাউকে বাদ দেবার জন্য সভায় যাইনি। দলের একজন সহসভাপতি মতবিনিময় করতে চেয়েছেন। সেখানে যাওয়াতো অন্যায় না। তা ছিল সৌজন্যতামূলক। আর ব্যানার টানানো হবে এটাও জানতাম না। শো’কজের ব্যাপারে আশরাফুজ্জামান বলেন, কোন মতবিনিময় সভায় যাওয়া কখনোই সংগঠন বিরোধী তৎপরতা হতে পারে না। আর শো’কজ করতে হলে সাংগঠনিক রীতিনীতি মানতে হয়। প্রেস রিলিজ দিলেই শো’কজ হয়ে যায় না। নিজাম চৌধুরীর দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি আজকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমেরিকায় এসে ৪টি প্রোগ্রাম করলেন। কোনটাতেই ড. সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতিত্ব করতে দিলেন না। তারই উচিৎ ছিল নিজ ইচ্ছায় সরে যাওয়া। আমরা বৈঠকে একটি রেজুলেশন নিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ফজলুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির প্রস্তাব করা হয়েছে। তা ঢাকায় নেত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তিনি অনুমোদন করলে ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী চলবে।
এদিকে বুধবার হ্যালো বাংলাদেশ রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারজেনিয়া আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জি আই রাসেল। তিনি মাসুদুল হাসানের ভিডিও বার্তা প্রসংগে বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে হোয়াটস অ্যাপে আমার যোগাযোগ হয়েছে। তিনি বলেছেন, কারও কার্যক্রম স্থগিত করা হয়নি। ড. সিদ্দিকুর রহমানই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের নামে সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সাথে তার দুরত্বও তৈরি হয়েছিল। তিনিও গত বুধবার সিদ্দিকুর রহমান আহুত বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি সভায় বলেন, ভিডিও বার্তাটি অসত্য। আমার সাথে ঢাকায় অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সোবহান গোলাপের সাথে টেলিফোনে কথা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বা সেক্রেটারি কারোরই দায়িত্ব কেন্দ্র স্থগিত কওে নি। আর সংগঠনকে বির্তকিত করার জন্য আওয়ামী লীগের নামে কেউ ব্যানার টানিয়ে সভা করতে পারেন না।
ড. সিদ্দিকুর রহমানের দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি আজকালকে বলেন, নিজাম চৌধুরীরা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে একটি অবৈধ সভা করেছে। ভিডিওতে আমরা যা দেখেছি তা সংগঠন বিরোধী। তার আলোকেই ৮ জনকে শো’কজ করা হয়েছে। আর তা সত্য না হলে ইস্যু করা ‘শো কজ’র কোন অস্তিত্ব নেই। তারা যদি কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে থাকেন তা জানালেই ফয়সালা হয়ে যাবে।
ডা.মাসুদুল হাসানের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি টেলিফোন রিসিভ করেন নি। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রতিবেদককে বলেন, ডা. মাসুদ একা হয়ে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে থাকাবস্থায় তিনি যাদের নিয়ে চলতেন, তারাও তার সাথে নেই। এদিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রদীপ রঞ্জন কর ,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা ও দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বর্তমানে গ্রুপ পলিটিক্স থেকে দূরে রয়েছেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম