নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩ | প্রিন্ট | ৩১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির নির্বাচন আগামী ২২ অক্টোবর রোববার। আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে মান্নান -জুয়েল ও মিসবাহ আহমেদের নেতৃত্বে মিসবাহ-অপু প্যানেল মুখোমুখি। ৮ হাজার ভোটার সরাসরি এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সিলেট অঞ্চলের মানুষের মধ্যে এ নির্বাচন নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েচে। বৃহৎ এ সংগঠনটি কমিউিনিটির অন্যান্য সংগঠনগুলোর মতো বহুধাভাগে বিভক্ত হয়নি। ঐক্যের প্রতীক হিসেবে সাক্ষ্য বহন করছে। এ নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে টানটান উত্তেজনা। দ্বিতায় টার্মে সভাপতি হিসেবে লড়ছেন আব্দুল মান্নান। গত নির্বাচনে মান্নানের কাছে ৮০ ভোটে হেরে মিসবাহ আহমেদ এবারও লড়ছেন। প্রবাসে বৃহত্তম আঞ্চলিক সংগঠন বিয়ানীবাজার সমিতি। নিউইয়র্কেই ২৫ হাজারের বেশি বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষ বাস করেন। এ সংগঠনের ভোটার ছড়িয়ে রয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া,মিশিগান ও নিউইয়র্ক স্টেটের বাফেলোসহ অনেক শহরে। তাদের সকলকেই ২২ অক্টোবর ওজনপার্কে আসতে হবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। বিয়ানীবাজারের সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করেন এই ওজনপার্কেই। এই নির্বাচন নিয়ে ওজনপার্ক এলকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নিউইয়র্ক কাগজের পক্ষ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারি দুটি প্যানেলের সভাপতি আব্দুল মান্নান ও মিছবাহ আহমেদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।
৫০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবোঃ আব্দুল মান্নান
![]()
বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আব্দুল মান্নান বললেন, এবারের নির্বাচনে ৫০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো। ২০২১ সালে ৮০ ভোটে জয়ী হয়েছিলাম। বিয়নীবাজারবাসী গত ২ বছরে আমার জনকল্যানমূলক কর্মকান্ড দেখে আবারও নির্বাচিত কবেন। আমি রাজনীতি করি না। গলা ফুলিয়ে ভাষন দেই না । আমি কাজে বিশ্বাসী। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন করতে চাইনি। স্ত্রী ও ছেলে তারাও বারন করছিল। কিন্তু এলাকাবাসীর অনুরোধে প্রার্থী হয়েছি। কিছু অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই। যার অন্যতম হচ্ছে বিয়ানীবাজার সমিতির বাড়িটি সংগঠনের নামে করা। যার নামে বাডিটি রয়েছে তিনিও হ¯াÍন্তর করতে প্রস্তুত। কিন্তু সংগঠনের রেজিস্ট্রেশেন ৫১ (সি)তে ট্রান্সফার না করা পর্যন্ত তা সম্ভব নয়। বিষয়টি স্টেটের পক্রিয়াধীন আছে। সহসাই ৫১(সি) আর্ন্তভূক্ত হবে। বাাড়িটি স্থানান্তরের সমস্যা হবে না। এছাড়া সংগঠনের নামে একটি কমিউনিটি সেন্টার ও ফিউনারেল হোম করা আমার নির্বাচনী প্রধান এজেন্ডা। নির্বাচিত হলে তা করবো ইনশাল্লাহ।
আপনার প্রতিপক্ষ প্যানেল মিজবাহ-অপু প্যানেলের সভাপতি মিজবাহ আহমেদ অভিযোগ করেছেন, আপনারা (মান্নান-জুয়েল প্যানেল) ষড়যন্ত্র করছেন। এ ব্যপারে আপনি কি বলতে চান? জবাবে মান্নান বলেন, নির্বাচনের ষড়যন্ত্রের সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের আয়োজন করবে। ভোটারে ভোট দিবে। আমাদের কোন হাত নেই। এখানে তিনি ষড়যন্ত্র কোথায় খুঁজে পেলেন। জামাইকার একটি নির্বাচনী সভায় তাদের শামীম নামের একজন নেতা বক্তৃতায় নির্বাচন কমিশনের ‘চামড়া’ উঠাইবার চাইছে। এটা আবার কেমন ভাষা। তারাই আসলে গন্ডগোল লাগাইতে চায়। ইস্যু তৈরি করতে চায়। ঝগড়া বিবাদ করতে চায়।
আপনি ১৬ অক্টোবর মিজবাহদের পূর্ব ঘোষিত আল মদিনা পার্টি হলে নির্বাচনী সভা ডেকে গন্ডগোল লাগাতে চাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন, বিষয়টি সত্য নয়। আমাদের প্যানেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজাম উদ্দীন আল মদিনা হলের জন্য বুকিং দিয়েছেন। চুনুই ভাইয়ের ছেলে ঐ হলের একজন ম্যানেজার। তাকে প্রভাবিত করে তারাও ১৬ অক্টোবর সেখানে নির্বাচনী সভা করতে চায়। রিজু আহমেদও বিষয়টি জানে। ওরা একটি ইস্যু তৈরি করতে চাচ্ছে। আমরা আল মদিনায় না হলে ওজন পার্কেই অন্য হলে করবো। প্রয়োজনে অন্য তারিখে করবো। তবুও ওদের ইস্যু সৃষ্টি করতে দেব না।
‘১৯৬ জন অতিরিক্ত ভোটার করেছেন বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি? জবাবে আব্দুল মান্নান বলেন, একটি মিসটেক হয়েছিল। তারা সদস্য ফি জমা দিয়েছিলেন। ভুলের কারনে তাদের নাম বাদ পড়ে যায়। পড়ে তা ধরা পড়ে। সংবিধান মোতাবেকই তা ঠিক করা হয়েছে। তাদের জমা দেয়া অর্থ রিসিপ্ট বুকের নম্বরেও ছিল। সুতরাং ভোটার হওয়া তাদের অধিকার। নির্বাচনী প্রতিপক্ষরা জালালাবাদের সাবেক ২ জন সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও বদরুল হোসেন খানের কাছে গিয়ে অঅপত্তি তুলেও ধরেছিলেন। কিন্তু সবকিছু বিবেচনা করে তারা বলেছন, ১৯৬ জনের বেলায় কোন অনিয়ম হয়নি।
সংগঠনের অতীত অনিয়ম তুলে ধরে আব্দুল মান্নান বলেন, আজিমুর রহমান বুরহান ৬ বছর সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। সংগঠনের কোন ট্যাক্স আইডি পর্যন্ত করেন নাই। অনেক কলংকজনক কাজ তারা করেছেন। আগুন ধরিয়ে সংগঠনের কাগজ পোড়ানোর ঘটনাও বিয়ানীবাজারবাসী জানেন। চুনুই ভাই ২ বছর সভাপতি ছিলেন। ১ বছর কোন মিটিংই করতে পারেন নাই। অতীতে সংগঠনের অর্থের কোন হিসেবই ছিল না। সাবেক সভাপতি মাহবুল রহিম চুনুই আমরা দায়িত্ব নেবার পর ৬ মাস কোন রেজুলেশনই হস্তান্তর করেন নাই। আমরা গত ২ বছরে ৪টি সাধারন সভা করেছি। কোষাধ্যক্ষ প্রত্যেকটি সভায় রিপোর্ট পেশ করেছেন। কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন নাই। আমরা এবার জয়ের ব্যাপারে শতকরা ১০০ ভাগের ওপরে আশাবাদী। ৫০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো ইনশাল্লাহ।
নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছেঃমিসবাহ
![]()
বিয়ানীবাজার সমিতির নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিসবাহ আহমেদ বললেন, নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যত ষড়যন্ত্র করুক এবার আমার প্যানেল বিজয়ী হবেই। ভোটাররা নতুন নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছে। ২২ অক্টোবর আমরা বিজয়ের মালা ছিনিয়ে আনবো। নিউইয়র্ক কাগজের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। উল্ল্খ্যে ২০২১ সালের নির্বাচনে মিসবাহ আহমেদ ৮০ ভোটে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নানের কাছে হেরে যান।
তিনি বলেন, ১৬ অক্টোবর মিসবাহ-অপু প্যানেলের নির্বাচনী সভা ওজনপার্কের আল মদিনা পার্টি হলে। আমরা অগ্রীম বুকিং দিয়েছি দেড় মাস আগে।তার রিসিপ্টও রয়েছে। কিন্তু মান্নান-জুয়েল প্যানেলের সহসভাপতি প্রার্থী আমাদের এই সভা বানচালের জন্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারাও ওখানে ১৬ তারিখেই সভা করতে চায়। তারা একদিন পরে করলেতো অসুবিধা নেই। আমরাতো একই এলাকার মানুষ। আগে বা পরে করলে ভোট কমবেশি হবে না।
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশা ব্যক্ত করে মিসবাহ বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে বিয়ানীবাজার সমিতির সাথে জড়িত। নির্বাচিত ক্রিড়া সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারন সম্পাদক ছিলাম। নির্বাচন কমিশিনার হিসেবেও কাজ করেছি। সেক্রেটারি নির্বাচিত হবার পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। যার কারনে ৮ মাস পরে দায়িত্ব পেয়েছিলাম। কমিটির স্বল্প সময়ে আমি ১৬০টি কবর কিনেছিলাম সংগঠনের নামে। আমাদের প্যানেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারনা চালানো হচ্ছে। আমরা নির্বাচিত হলে সংগঠনের বাড়িটি সমিতির নামে দলিল করা হবে। কমিউনিটি সেন্টার ও ফিউনারেল হোম তৈরি হবে আমার প্রধান দায়িত্ব। বিয়ানীবাজারবাসীদের সাথে নিয়ে এ কাজ সম্পন্ন করবোই।
১৯৬ জন ভোটার নিয়ে আপত্তি প্রশ্নে মিসবাহ আহমেদ বলেন, বিয়ানীবাজার সমিতি একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। প্রবাসে একক সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এটাই বিয়ানীবাজরের বিউটি। শেষ দিনে চাঁদা পরিশোধ সাপেক্ষে ভোটার তালিকা হলো। কোন গড়মিল দেখলাম না। সবকিছুরই মিল ছিল। আমি সেখানে উপস্থিত থেকে সবাইকে ধন্যবাদ দিলাম। ৫ দিন পর তারা বিবৃতি দিয়ে জানালো ১৯৬ জনের নাম ভোটার তালিকায় ভুলবশত উঠে নাই। আমরা আপত্তি জানালাম। উপদেষ্টাদের কাছে এ ব্যাপারে চিঠি দিলাম। তারাও ১৯৬ জনের অর্ন্তভুক্তির পক্ষে বললেন। বিয়ানীবাজারের মুরুব্বী কুনু ও বদরুল ভাইকেও জানালাম। কাজ হলো না। এরপরও এই ভোটার তালিকা মেনে নিয়ে নির্বাচন করছি। নির্বাচনে হেরে গেলে এই ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন কিনা জানতে চাইলে জ্বনাব মিসবাহ বলেন, অবশ্যই না। এটা নিয়ে কোন মামলা করবো না। নির্বাচনে হারলেও বিজয়ীদের সহযোগিতা করবো। এটা একটি আঞ্চলিক সংগঠন। এ সংগঠনের অধিকাংশ সদস্যই আমাদের ভাইবোন। কিংবা আত্মীয়স্বজন। কার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
নির্বাচনের ব্যতি ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে মিছবাহ বলেন, ৮ হাজার ভোটার কম কথা নয়। তাও আবার ওজনপার্ক, ব্রংকস, এস্টোরিয়া, জ্যাকসন হাইটস, জামাইকা, ব্রুকলিন, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, বাফেলো ও নিউজার্সিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। সবার কাছে পৌছা কঠিন হয়ে পড়েছে। আপ্রান চেষ্টা করছি ভোটারদের কাছে যেতে।