নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৩ | প্রিন্ট | ২৬২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
হুমায়ূন আহমেদ সম্মেলন ও আর্ন্তজাতিক বাংলা বইমেলায় জাদুকর জুয়েল আইচ হুমায়ূনের ১৪ লাউ ও রশি লাগানো ৭ বোতল ওয়াইনের গল্প শোনালেন। তুলে ধরলেন, ৪২ রকমের মাছ দিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজ কিংবা ডিনার করানোর স্মৃতি। একটি দেয়ালের ব্যবধানে তাদের বাস হলেও বেলকুনিতে নানা খুনশুটির গল্পের শেষ নেই। এমনই নানা স্মৃতিচারন নিয়ে জুয়েল আইচ ঘন্টাব্যাপী হুমায়ুনের কথা বলছিলেন। মানবিকতা ও সরলতায় কালজয়ী পাঠকপ্রিয় লেখকের কথা বলতে বলতে তিনি আবেগ প্রবন হয়ে উঠছিলেন। প্রসংগক্রমে টেনে আনছিলেন অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীর কথাও। যাদুকর অভিনেতা জুয়েল আইচ ফরিদীকে বিশ্বের অন্যতম সেরা অভিনেতা হিসেবে অবিহিত করেন। এ সময় হলের দর্শকরা করতালি দিয়ে তাকে সর্মথন করেন।
![]()
শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর শো টাইমের আলমগীর খান আলমের আয়োজনে ও বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় জামাইকাস্থ ‘দ্যা ম্যারি লুইস একাডেমি’তে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর বৃষ্টি আর প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নিউইয়র্কে বসবাসরত ৫ শতাধিকেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি এতে বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন। আবহাওয়ার বৈরি ভাব দেখে হুমায়ুন মেলার অনেক অতিথিকে বলতে শোনা যায়, বৃষ্টি আর আলমকে ছাড়ছেই না। গেল বছরও হুমায়ুন মেলার দিন প্রচন্ড বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া ছিল। এবারের মেলার প্রধান আর্কষন ছিলেন যাদু শিল্পী জুয়েল আইচ। রাত ১১টা অবধি তার সাথে প্যানেল আলোচনায় ছিলেন ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, পূরবী বসু ও মাজহারুল ইসলাম। গুণী ব্যক্তিত্ব জুয়েল আইচ তার গুরু গম্ভীর বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে শ্রোতাদের কিছুটা হালকা করার জন্য যাদু দেখাচ্ছিলেন। আলোচনার শুরুতেই হল ভর্তি মানুষকে মনস্তাত্ত্বিক বক্তব্য দিয়ে আবেগ ও ধ্যানমগ্ন (সম্মেহিত) করে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যান। এরপর হুমায়ূন আহমেদের সাথে দীর্ঘ স্মৃতি চারণ করেন। মেলায় সংগঠক পর্য়ায়ের কর্মকর্তা শাহ ফাউন্ডেশনের শাহ জে চৌধুরী মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে বক্তব্য শুনছিলেন। এক সময় হয়তো তিনি অনুভব করেন, জুয়েল আইচের গলা শুকিয়ে আসছে। দৌড়ে গিয়ে পানির বোতল যাদুকরের হাতে তুলে দেন। এক ঢোক পানি মুখে নিয়ে জুয়েল আইচ ‘চৌধুরী’কে অসংখ্য ধন্যবাদ দেন। এমনি নানা ঘটনা এবারের বাংলা বই মেলা ছিল উল্লেখ করার মতো। প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত অধিকাংশ মানুষই উপস্থিত ছিলেন মেলায়। বাংলাদেশের ব্যাংক বীমা কিংবা সরকারি দয়া দাক্ষিণ্যে অর্থ উর্পাজনের হাতিয়ার হিসেবে বই মেলাকে ব্যবহারের চিত্রটি পরিলক্ষিত হয়নি। এইতো কয়েকদিন আগে ম্যানহাটনের একটি হোটেলে বাংলাদেশিদের ব্যবসায়ী ও মন্ত্রীদের এনে বানিজ্য সম্মেলনের নামে মহড়া অনুষ্ঠিত হলো। ৪৭ জন দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মেলায় কোয়ার্টার মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বানিজ্য করেছেন একজন সাহিত্য সংস্কৃতি সেবক ব্যবসায়ী। । হুমায়ূন মেলায় উপস্থিত একজন বাংলাদেশি বলেন, রাইটার্স ক্লাব ও শো টাইম মিউজিকের হুমায়ূন সম্মেলন ও বই মেলায় ম্যানহটানের বানিজ্য মেলার আদলে বানিজ্য এ মেলায় হয়নি। বৈরি আবহাওয়াতেও পরিচ্ছন্ন একটি সম্মেলন উপভোগ করলো প্রবাসীরা।
![]()